একটি বিতর্কিত চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। 'কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি' ছবির দ্বিতীয় টিজার সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন এর নির্মাতারা। সালমান খানের সঙ্গে জড়িত একটি পুরনো মামলার আদলে এই ছবি নির্মিত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ছবিটির শুটিং, প্রচার ও মুক্তি বন্ধের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন সালমান খান। সেই আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীনই টিজার প্রকাশ করা হলো। টিজারে একটি আদালতকক্ষের দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে 'আয়ান খান' নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কালো হরিণ শিকারের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনানির সময় এক সাক্ষী ঘটনার রাতের বর্ণনা দিচ্ছেন। এই চরিত্রটিকে সালমান খানের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে করা হচ্ছে। চরিত্রটির হাতে সালমান খানের পরিচিত একটি ব্রেসলেট দেখা গেছে। এছাড়া টিজারে 'দাবাং' ও 'সিকান্দার' শব্দের ব্যবহারও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সালমান খানের দায়ের করা মামলার শুনানি পিছিয়ে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। এই অবস্থায় নির্মাতারা জানিয়েছেন, ছবিটি শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। তবে এখনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। টিজারে অভিনয় করেছেন প্রবীণ অভিনেতা গোবিন্দ নামদেব, যাকে বিষ্ণোই সমাজের আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা গেছে। 'আয়ান খান' চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাশিফ ইকবাল খান। ভারত এস শ্রীনেত ছবিটি পরিচালনা করেছেন। এই ছবির পটভূমি হচ্ছে ১৯৯৮ সালের সালমান খানের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা। ওই বছর যোধপুরে 'হাম সাথ সাথ হ্যায়' ছবির শুটিং চলছিল। অভিযোগ, এক গভীর রাতে কাঁকানি গ্রামের কাছে দুটি সংরক্ষিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করা হয়। ঘটনাস্থলে সালমান খান ছাড়াও সাইফ আলী খান, সোনালি বেন্দ্রে, টাবু ও নীলম উপস্থিত ছিলেন। রাজস্থানের বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে পবিত্র মনে করে। তারা ১৯৯৮ সালের ২ অক্টোবর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনাটি তখন দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১২ অক্টোবর সালমান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তদন্ত শেষে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে এবং অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা হয়। ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল নিম্ন আদালত সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। উচ্চ আদালত পরে সাজা স্থগিত করে। ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল যোধপুরের আদালত আবার তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করে। তবে সহ-অভিযুক্ত সাইফ আলী খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলমকে খালাস দেওয়া হয়। রায়ের পর সালমান খান দুদিন যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেন, যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই মামলাকে কেন্দ্র করে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই তার গোষ্ঠী নিয়ে সালমান খানকে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বান্দ্রায় তার বাসার বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের একাংশ দাবি করে, কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। চলচ্চিত্রটি ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে। এক সাক্ষী হুমকি পাওয়ার দাবি করেছেন, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। 'কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি' নিয়ে আইনি লড়াই ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।