পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (পিএকে) দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাওয়ালাকোট শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি সংঘর্ষে অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়েছেন। একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, গত ২৭ জুলাই থেকে তার অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রে গুরুতর আহত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫-২০ জনই গুলিবিদ্ধ।
ওই অস্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে বিবিসির প্রতিবেদক দেখেছেন, পূর্ববর্তী রোগীদের রক্তমাখা চাদরে শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন শাফকাত হোসেন নামের এক ব্যক্তি, যার বুকে গুলি লেগেছে। ডা. আনোয়ার (ছদ্মনাম) জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ওষুধ থাকলেও বুকে, পেটে বা মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তর জরুরি। তবে বিক্ষোভকারীরা গ্রেফতার বা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভয়ে মূল হাসপাতালে যেতে ভীত, যদিও কর্তৃপক্ষ এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, সেবা কার্যক্রমে কোনও বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
জেএএসি বলছে, বিদ্যুৎ, আটার দাম ও অন্যান্য মৌলিক অধিকারের দাবিতে তাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। গত অক্টোবরে পাকিস্তান ও পিএকে সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে তারা, যা তাদের মতে বাস্তবায়ন করা হয়নি। অপরদিকে, পিএকে কর্তৃপক্ষের দাবি, জেএএসি একটি বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা চলমান নির্বাচন ব্যাহত করতেই সহিংসতা চালাচ্ছে। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জেএআইি বলছে, তারাই সহিংসতার শিকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীই প্রথম গুলি চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে আসে স্থানীয়দের মর্মস্পর্শী বক্তব্য। নিজের একমাত্র সন্তানকে হারানো আসমা নামের এক নারী বলেন, “আমার ছেলে জানত ঝুঁকি আছে, কিন্তু ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানোটা সম্মানের বলে সে বিশ্বাস করত।” অপর একজন সালমান তার হারানো ভাই প্রসঙ্গে গর্ব ও শোকের কথা জানান। একজন সাবেক সেনাসদস্য আইয়ুব পিএকে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জেনারেল জিয়া ও মোশাররফের আমলেও তিনি এমন পরিস্থিতি দেখেননি।
কর্তৃপক্ষ পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে কিছু আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে দাবি করা হয়েছে, সেগুলো জেএএসিির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা ড্রোনে তোলা ভিডিও প্রকাশ করে দেখিয়েছেন যে, ছাদে বন্দুকহাতে কিছু লোক রয়েছেন, যারা এই গোষ্ঠীর সদস্য। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে এক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, আধা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা হত্যার জন্য তাকে এক কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
জেএএসিির কেন্দ্রীয় সদস্য ওমর নাজির এই সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন এবং দাবি করেন, তাদের মধ্যে বাইরের লোক ঢুকিয়ে কর্তৃপক্ষ নিজেরাই হয়তো কিছু সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। বিবিসির দল বিক্ষোভস্থলে কোনো অস্ত্র দেখতে না পেলেও রাতে বারবার গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। শহরটি এখন অবরুদ্ধ, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন এবং খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ওমর নাজির জানান, তাঁরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু আপাতত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।



