মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডস্থ ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা প্যাক্সসন সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, চলতি শিক্ষাবর্ষের সমাপ্তিতে তিনি তার পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ সময় পার করার পর তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে প্যাক্সসন উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে তিনি এক বছর আগেই দায়িত্ব ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু ফেডারেল তহবিল স্থগিত হওয়ার যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল, তা সামাল দিতেই তিনি অতিরিক্ত সময় দায়িত্বে বহাল থাকেন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রশাসনের প্রারম্ভিক লক্ষবস্তুগুলোর একটি হয়ে ওঠে। গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ছাত্রদের বিক্ষোভকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে চিহ্নিত করে। একইসাথে, বৈচিত্র্য নীতিমালা ও অন্যান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়। যদিও ওই বিক্ষোভে কয়েকটি ইহুদি সংগঠনও অংশ নিয়েছিল এবং বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা ও ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের সমালোচনাকে ভুল ব্যাখ্যা করে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিনি মানুষের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়াকে চরমপন্থার সমর্থন বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতি ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ৫১ কোটি ডলারের ফেডারেল অনুদান বন্ধ করার হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্যাক্সসন ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে একটি সমঝোতায় উপনীত হন, যার ফলে তহান পুনর্বহাল হয়। এই চুক্তির আওতায়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ এবং ইহুদি ছাত্রদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন পরিচালনা ও উন্নয়নের সুপারিশ গ্রহণে সম্মতি জানায়। কিন্তু একই বছরের অক্টোবরে প্যাক্সসন আরেকটি প্রস্তাব খারিজ করে দেন, যা ৯টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো, লিঙ্গিক পরিচয়কে কেবল জন্মগত জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করা এবং শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে জাতি ও লিঙ্গ বিবেচনা না করার শর্তে অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্যাক্সসনের মতে, এই প্রস্তাব শিক্ষার স্বাধীনতাকে সীমিত করত এবং ব্রাউনের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করত।

তিনি তার বিদায়ী চিঠিতে লিখেছেন, ‘যদিও ফেডারেল নীতিমালা এখনো সারাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি করে চলেছে, তারপরও ব্রাউন যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গবেষণা অনুদান পাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রকে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে নেবে।’ তার দায়িত্বকালে প্যাক্সসনকে একাধিক কঠিন ও মর্মান্তিক ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। গত ডিসেম্বরে এক সাবেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অন্ধাধুন্ধ গুলিবর্ষণ করে, যাতে দুই ছাত্র নিহত ও ৯ জন আহত হন। হামলাকারী পরে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একজন অধ্যাপককে হত্যা করে এবং নিজেও আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পর ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সতর্কবার্তা ও ক্যাম্পাস নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা শুরু করে।