‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’ নামে শিক্ষার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখাসহ তিনটি দাবি নিয়ে আজ সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছে।
প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে যে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে সেগুলো হলো: প্রথমত, ছাত্রী হলে বর্তমানে প্রচলিত সান্ধ্য আইন বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রী হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা। দ্বিতীয়ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রীরা তাদের বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং অনুমতি নিয়ে রাত্রিযাপনের সুযোগ পাওয়া। এবং তৃতীয়ত, যেকোনো ছাত্রীর পরিবারের নারী সদস্যদের হলের কক্ষ পর্যন্ত যাতায়াতের অনুমতি প্রদান।
স্মারকলিপিতে যুক্তি দিয়ে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সম-অধিকার সুনিশ্চিত করতে হলে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের বাধার পরিবর্তে একটি নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা, সাংগঠনিক কাজ, পারিবারিক প্রয়োজন অথবা ব্যক্তিগত জরুরি কারণে একজন ছাত্রীর যেকোনো সময় হল থেকে বের হওয়া কিংবা হলের অভ্যন্তরে প্রবেশের দরকার পড়তে পারে। এই বিবেচনা থেকে সময়সীমা বাড়ানোর বদলে সার্বক্ষণিক প্রবেশ ও বের হওয়ার সুবিধা চালু করার দাবি তুলে ধরা হয়।
উপাচার্যের কাছে প্রদত্ত এই স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের এসব যৌক্তিক দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সানজানা চৌধুরী রাত্রি, যিনি প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, প্রথম আলোকে জানান যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি নারী হলেই দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু সীমাবদ্ধ নীতি ও আইন বলবৎ আছে, যেগুলো বৈষম্যমূলক ও হয়রানির শামিল। তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল রোববার রাতে এ সকল বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী, বিভিন্ন হল সংসদের প্রতিনিধি, ডাকসু প্রতিনিধি ও ক্যাম্পাসের সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রায় ২৫ জন সদস্যের উপস্থিতে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার প্রেক্ষিতেই এই নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সানজানা চৌধুরী আরও যোগ করেন, উপাচার্যের কাছে দাবিগুলো উপস্থাপনের পাশাপাশি বর্তমান নিয়মগুলো কেন পরিবর্তনের দাবি রাখে, সেই যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঁচটি নারী হলের প্রভোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে, এবং সেই বৈঠকে তাদের প্রতিনিধিদেরও ডাকা হবে।




