চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির মধ্যে সংযোগকারী সড়কটি বেশ কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির ফলে একাধিক স্থানে পাহাড়ধসের কবলে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িমুখ এলাকায় সড়কের ওপর হঠাৎ করে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে ওই সড়কে ব্যাপক মাটির স্তূপ জমে যায়, যা যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং মাটি অপসারণের কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সড়কের এক পাশ থেকে মাটি সরানো সম্ভব হলে ওই লেন দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত মাটি সরানোর কাজ চলছিল বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টার দিকে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের মতিপাড়া (৪ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সেখানেও যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। রাইখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মংক্য মারমা জানান, গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে রাতের কোনো এক সময় ওই এলাকায় সড়কের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। ফলে সকাল থেকে ওই পথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, পাহাড়ধসের সংবাদ পাওয়ার পর সওজের একটি দল রাজস্থলী ও চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এরই মধ্যে আবার সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িমুখ এলাকায় নতুন করে ধস নামে এবং সেখানে আরেকটি উদ্ধার দল কাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি থামলেও পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর পড়ার ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। সড়ক বিভাগের কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কটি এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা হওয়ায় পাহাড়ধসের কারণে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এদিকে কাপ্তাই এলাকায় ছোট যানবাহনের জন্য বিকল্প পথ খুলে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।