বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৭৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে, যখন দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করা হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বনায়ন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠনের কথা জানিয়েছেন। জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডেটাবেজ ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। 'বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও পাঠ করা হয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে সরকারের সাফল্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার বিতরণ করেন: জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্য প্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫। এ ছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক হস্তান্তর করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সাইমুম পারভেজ এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি করে জলপাই, জারুল ও নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এ মেলায় মোট ১২০টি স্টল অংশ নিয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সম্প্রসারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতেই এই আয়োজন। রাজধানীতে পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জনগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে '৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ' কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।