মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং তা যথাযথ কারণেই। টুথপেস্ট, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে এসব কণা সনাক্ত করা গেছে। নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসার ফলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগসহ গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্লাস্টিক দূষণ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব হ্রাস করতে জোরালো ও তাত্ক্ষণিক উদ্যোগের প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশে খাদ্যে ভেজাল আরেকটি সমান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা এখনো প্রয়োজনীয় মনোযোগ পায়নি—দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারি ও বেসরকারি উভয় সংস্থার কাছ থেকেই। খাদ্য দূষণ শুধুমাত্র রাসায়নিক ভেজালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য ক্ষতিকারক অণুজীবের কারণে সৃষ্ট জৈব দূষণও অন্তর্ভুক্ত, যা স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হতে পারে। অনেক শীর্ষস্থানীয় খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যোগ্য অণুজীববিজ্ঞানী নিয়োগ করে। কিন্তু অন্যান্য খাদ্য ও পশুখাদ্য কারখানাগুলোর অবস্থা কী? প্রতিটি খাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী অণুজীব-ভিত্তিক মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য। একইসঙ্গে যোগ্য রসায়নবিদ ও প্রাণরসায়নবিদদের মাধ্যমে প্রিজারভেটিভ ও অন্যান্য রাসায়নিক সংযোজনী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের উচিত পরিদর্শন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগ নিশ্চিত করা। যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এমন দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হব, যার মূল কারণ অজানা থেকে যাবে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় যেমন জনসচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তেমনি এখন খাদ্য নিরাপত্তা, ভেজাল ও মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে দেশব্যাপী সচেতনতা অভিযান প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য একটি মৌলিক অধিকার, কোনো বিশেষ সুবিধা নয়।