টম হল্যান্ড এবং জেন্ডায়া অভিনীত সর্বশেষ সুপারহিরো সিনেমা 'স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে' উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস ইতিহাসে এক অসামান্য সাফল্যের সূচনা করেছে। সনি পিকচার্সের পরিবেশনায় মুক্তি পাওয়া ছবিটি প্রথম সপ্তাহান্তে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের টিকিট বিক্রি করে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছে। এটি ছিল ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম' (৩৫৭ মিলিয়ন ডলার) এর চেয়ে মাত্র কয়েক মিলিয়ন ডলার কম।

ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত 'ব্র্যান্ড নিউ ডে' শুরু থেকেই শক্তিশালী অবস্থান জানান দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৪,৪৮৭টি প্রেক্ষাগৃহে প্রথম দিনই এটি রেকর্ড ১৬৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা 'অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেমের' প্রথম দিনের ১৫৭ মিলিয়ন ডলারকে ছাড়িয়ে যায়। প্রযোজনা সংস্থা প্রাথমিকভাবে প্রথম সপ্তাহান্তের আয় ৩২৫ মিলিয়ন ডলার হবে বলে ধারণা করেছিল, যা তৎকালীন দ্বিতীয় স্থানকে হারানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। সর্বোচ্চ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের তালিকায় 'ব্র্যান্ড নিউ ডে'-র অবস্থান 'স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম' (২৬০ মিলিয়ন ডলার, ২০২১), 'অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার' (২৫৭ মিলিয়ন ডলার, ২০১৮) এবং 'স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স' (২৪৭ মিলিয়ন ডলার, ২০১৫) -এর উপরে।

হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যান চরিত্রের সাফল্যের ধারা সুদীর্ঘ। তার তৃতীয় একক স্পাইডার-ম্যান ছবি 'নো ওয়ে হোম' বিশ্বব্যাপী ১.৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এখন পর্যন্ত সর্বকালের অষ্টম সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা। মহামারির পর বিলিয়ন ডলার অতিক্রমকারী প্রথম সিনেমার মর্যাদাও এটি অর্জন করেছিল। 'ব্র্যান্ড নিউ ডে'র এই বিজয়ের সময়েই ক্রিস্টোফার নোলানের 'দ্য ওডিসি' তার তৃতীয় সপ্তাহান্তে ৫১ মিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। 'দ্য ওডিসি'তেও হল্যান্ড ও জেন্ডায়া উভয়ই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

নিরীক্ষণ ও দর্শক উভয়ের কাছ থেকেই 'ব্র্যান্ড নিউ ডে' জোরালো সাড়া পেয়েছে। চলচ্চিত্র নিরীক্ষণ সাইট রটেন টমেটোস-এ ছবিটির স্কোর বর্তমানে ৯০%। পোস্টট্রেকের তথ্য অনুযায়ী, দর্শকরা সিনেমাটিকে 'A' সিনেমাস্কোর ও পাঁচ তারকা রেটিং প্রদান করেছে। একই জরিপ থেকে জানা যায়, টিকিট ক্রেতাদের প্রায় ৬১% পুরুষ এবং প্রায় অর্ধেক দর্শকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। সবচেয়ে বড় অংশ ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী, যা মোট দর্শকের ৩৬%। ২৫ থেকে ৩৪ বছরের দর্শক ছিল ২৭%।

প্রায় ২২৫ মিলিয়ন ডলার নির্মাণ ব্যয়ের (বিপণন খরচ ব্যতীত) এছবিটি ঘিরে প্রত্যাশা সবসময়ই অনেক ছিল। তবে পূর্ববর্তী ছবিতে টোবি ম্যাগুইর ও অ্যান্ড্রু গ্যার্ফিল্ডের অন্তর্ভুক্তি দর্শকদের মধ্যে যে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল, তা 'ব্র্যান্ড নিউ ডে'তে নাও থাকতে পারে—এমন সংশয় ছিল। বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রমাণিত হয়েছে। সামগ্র্রিকভাবে ছবিটি আগ্রহের মাত্রা আগের যে কোনও সময়ের চেয়েও বেশি দেখিয়েছে।

'এন্ডগেমের' পর থেকে সুপারহিরো সিনেমার মৃত্যুশয্যা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। মার্ভেল স্টুডিওজেরই একাধিক বড় ব্যর্থতা সে ধারণাকে জোরালো করেছিল। তবে সঠিক সিনেমাগুলো আসলে ব্যাপক সফল হয়, বিশেষত 'নো ওয়ে হোম' এবং 'ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন', যা ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছিল। এ বছর তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের সিনেমা দেখা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেন্ডায়া অভিনীত 'অবসেশন', 'ব্যাকরুমস' ও 'দ্য ড্রামা'-র মতো সিনেমাও তরুণদের ভিড়ে হিটে পরিণত হয়েছে।