ফিনটেক খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেভুলুট। ৭৫ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন এবং বিশ্বব্যাপী ৭ কোটি ৫০ লক্ষ গ্রাহক নিয়ে এটি এখন শিল্পের অন্যতম আলোচিত নাম। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নিক স্টোরনস্কিকে অনেকেই ‘জেফ বেজোস অব ফাইন্যান্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। আইরিশ ভাষায় ‘রেভুলুট’ শব্দটি ইতোমধ্যেই ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বা বিল ভাগ করার ক্রিয়াপদে পরিণত হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৮০ শতাংশেরও বেশি এই সেবা ব্যবহার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে রেভুলুট। এর আগে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণ ব্যাংকিং মর্যাদা দিয়েছে, যার ফলে গ্রাহকরা এখন আরও সহজে চলতি হিসাব, বন্ধক এবং জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ৪০টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এই প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালে রেকর্ড ২.৩ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি।

রেভুলুটের যুক্তরাজ্যের প্রধান নির্বাহী ফ্রান্সেস্কা কার্লেসি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের বাজার প্রতিযোগিতাপূর্ণ হলেও তারা এই প্রতিযোগিতাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। তার মতে, রেভুলুটের ‘ওয়াটারমার্ক’ বা ব্র্যান্ড পরিচিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেপিমরগ্যান চেজের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন তার শেয়ারহোল্ডারদের চিঠিতে নতুন প্রতিযোগীদের গুরুত্ব না বোঝার বিষয়ে সতর্ক করে রেভুলুটকে অন্যতম সফল ‘ডিসরাপ্টর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জেপিমরগ্যানের বিশ্লেষকরা বলছেন, রেভুলুটের ৭ কোটি ৫০ লক্ষ গ্রাহক সংখ্যা মঞ্জো, স্টার্লিং, এন২৬, বাঙ্ক এবং ওয়াইজের সম্মিলিত গ্রাহক সংখ্যার চেয়েও বেশি এবং জেপিমরগ্যানের গ্রাহক সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ তহবিল সংগ্রহে এর মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ৭৫ বিলিয়ন ডলারে। ভবিষ্যতে আইপিও হলে ব্যবসাটির মূল্য ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রতিষ্ঠাতা স্টোরনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এনভিডিয়া ও সফটব্যাংক এই প্রতিষ্ঠানের বড় বিনিয়োগকারী। স্টোরনস্কির মূল দৃষ্টিভঙ্গি ছিল একটি একক, বৈশ্বিক আর্থিক ‘সুপার-অ্যাপ’ তৈরি করা, যেখানে গ্রাহকরা দৈনন্দিন ব্যাংকিং, ঋণ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং লাইফস্টাইল ব্যবস্থাপনার সবকিছুই করতে পারবেন।

প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ধীরগতি ও অদক্ষতার সমালোচনা করে রেভুলুটের জেনারেল ম্যানেজার জেমস গিবসন বলেছেন, নিক একটি জটিল সমস্যার সমাধান দিয়ে শুরু করেছিলেন, যা অন্যদের অসম্ভব মনে হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে ব্যবসা ও খুচরা গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং খাতে প্রায় কোনো উদ্ভাবনই হয়নি। প্রতিষ্ঠাতা স্টোরনস্কি মার্কিন নিয়ন্ত্রকদের বোঝানোর জন্য স্যুট পরার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও তার প্রতিষ্ঠানের দ্রুত সম্প্রসারণের রেকর্ডই যথেষ্ট প্রমাণ বলে মনে করেন। আইপিও সফল হলে তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।