দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চরম সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণের কোনো সহজ পথ নেই বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর উপাচার্য ম তামিম। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য, যদিও এই প্রক্রিয়াগুলো বেশ সময়সাপেক্ষ। বর্তমানে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব না হওয়ায় সাময়িকভাবে চাহিদা কমিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়াটি একটি যান্ত্রিক কার্যক্রম, যেখানে কারিগরি সমস্যা বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এমনকি চুক্তির শর্তানুসারেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ থাকে। এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে অন্তত সাত দিনের সমপরিমাণ এলএনজি মজুত রাখার ব্যবস্থার কথা বলেছেন তিনি। যেহেতু বিকল্প কোনো উৎস নেই, তাই দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধরে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১০ ও ২০১৬ সালের বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনায় আমদানির ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু নিজস্ব জ্বালানি অনুসন্ধানের কোনো দিকনির্দেশনা বা সরকারি উদ্যোগ ছিল না। এর ফলে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৬৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ এই নির্ভরশীলতা ৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান এবং কয়লা উত্তোলনের পরীক্ষামূলক চেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের জন্য কয়লা সরবরাহে ঘাটতি না রাখা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি চালু করার বিষয়টি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার চেয়ে আপৎকালীন বা 'ফায়ার ফাইটিং' সমস্যার সমাধান করতেই বেশি ব্যস্ত থাকে, ফলে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলো পিছিয়ে পড়ছে। জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, সংরক্ষণ এবং ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্টসহ একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি। এছাড়া সৌরবিদ্যুতের প্রসারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং নতুন কর-ভ্যাটের বাধা দূর করার আহ্বান জানান তিনি। এসব বাধা দূর করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটালেই বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে স্বস্তি আসা সম্ভব।