যুক্তরাষ্ট্রে offshore wind turbine উন্নয়নের বিরোধিতা করে আসা ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকল্প বাতিলে বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের যে ধারা শুরু করেছিল, তা অব্যাহত রয়েছে। ৬ আগস্ট জার্মানির জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরডব্লিউই-র সঙ্গে এক চুক্তির মাধ্যমে এই ধারার সর্বশেষ সংযোজন ঘটল। এতে প্রতিষ্ঠানটিকে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও লুইজিয়ানা রাজ্যের wind ইজারা বাতিলের বিনিময়ে ১.২২ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের offshore wind turbine-এর প্রতি প্রকাশ্য অপছন্দের জেরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফ্রান্সের TotalEnergies-এর সঙ্গে গত মার্চে এক বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে এই ধারাবাহিক প্রকল্প বাতিলের সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে শিকাগোভিত্তিক Invenergy, স্পেনের Ocean Winds, যুক্তরাজ্যের Reventus Power এবং ব্ল্যাকরকের Global Infrastructure Partners-এর সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিচার বিভাগীয় এই সমঝোতায় আরডব্লিউই-র নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি বিস্তৃত 'কমিউনিটি Offshore Wind' প্রকল্প এবং উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া ও মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য ইজারা বাতিল করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের জোরালো বিরোধিতা ও মামলার সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে 'সতর্ক বিবেচনায়' তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রকল্পগুলো অনুমোদনের কোনো পথ নেই।

পরিকল্পন অনুযায়ী, বাতিলের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ জীবাশ্ম জ্বালানিতে পুনর্বিনিয়োগ করবে আরডব্লিউই। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রতিষ্ঠানটি অস্ট্রেলিয়ার উডসাইড এনার্জির বিশাল লুইজিয়ানা এলএনজি প্রকল্পের ১৬ শতাংশ শেয়ার ক্রয় করবে, যার মূল্য ৯০ কোটি ডলার। গত বছর অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পটি ২০২৯ সালে উৎপাদনে যাওয়ার কথা। আরও ৩০ কোটি ডলার যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসভিত্তিক টারবাইন স্থাপনে খরচ করবে আরডব্লিউই। যদিও প্রতিষ্ঠানটি জোর দিয়ে বলছে, বৈশ্বিক offshore wind উন্নয়নে তারা এখনো অঙ্গীকারাবদ্ধ, কিন্তু ট্রাম্পের কঠোর বিরোধিতার মুখে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে প্রকল্প নয়।

তবে বাতিলকৃত প্রকল্পগুলো নিয়ে আইননি লড়াইও কম নয়। গত জুনে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ, এগুলো 'ভুয়া সমনঝোতা', যা বৈধ নয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প হারানোর মাধ্যমে রাজ্যগুলোর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার ও বিদ্যুতায়নের কারণে যখন বিদ্যুতের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী, তখন এসব প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত আরও আঘাত হয়ে এসেছে।