পোর্টল্যান্ড ফায়ার দলের প্রধান কোচ অ্যালেক্স সারামা তার পুরো পেশাদার ভবিষ্যৎকে এক নতুন কৌশলের সঙ্গে বেঁধে ফেলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত স্ক্রিপ্টেড ড্রিল বা পূর্বনির্ধারিত অনুশীলনের বদলে তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছেন কনস্ট্রেইন্টস-লেড অ্যাপ্রোচ বা সিএলএ-র উপর। এই পদ্ধতিতে খেলোয়াড়দের মুখস্থ করা নড়াচড়ার বদলে মাঠের ভেতরে প্রকৃত সময়ে সমস্যার সমাধান করতে শেখানো হয়।

সারামার এই সিদ্ধান্ত দলের খেলার ধরনে বড় পরিবর্তন এনেছে। প্রশিক্ষণ এখন আর কাগজে লেখা প্লে-বুক অনুসরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং খেলোয়াড়দের এমন পরিস্থিতিতে ফেলা হয় যেখানে তাদের নিজেদের বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই পদ্ধতিতে খেলোয়াড়দের চিন্তাশক্তি ও অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, খেলার চাপের মধ্যে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা অর্জনই আধুনিক বাস্কেটবলের মূল চাবিকাঠি।

দলের ভেতরে এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও সারামা তার অবস্থানে অনড়। তিনি বিশ্বাস করেন, দীর্ঘমেয়াদে এই পদ্ধতিই দলকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দেবে। তার এই সাহসী পদক্ষেপ লিগের অন্য কোচদের কাছেও নতুন ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পোর্টল্যান্ড ফায়ারের সাম্প্রতিক অনুশীলনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, খেলোয়াড়রা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের কৌশল বদলাচ্ছে।

সিএলএ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে সারামা নিজেও একজন শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি খেলোয়াড়দের কোনো নির্দিষ্ট সমাধান দেন না, বরং তাদের নিজেদের সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করেন। এই প্রক্রিয়ায় খেলোয়াড়রা নিজেদের ভুল থেকে শেখে এবং খেলার প্রতি তাদের বোধ আরও গভীর হয়। আগামী মৌসুমে এই পদ্ধতির ফলাফল কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।