ঘানায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার ব্যক্তি সুলেমানা আব্দুল সামেদের মৃত্যুতে। বুধবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, উত্তরাঞ্চলের তামালে শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পায়ের ঘায় সংক্রমণের কারণে সম্প্রতি ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। গ্রামের বাড়ি গাম্বাগা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তাঁর আত্মীয় সুলেমানা আব্দুল কুদুস বিবিসিকে জানান, সবার কাছেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার ও সদয়। মৃত্যুর পরও বাড়িতে ভিড় করছেন অনেকে, ঘটনার সঠিক বিবরণ জানতে চাইছেন। কেউ কেউ এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তিনি আর নেই।
২০২৩ সালে বিবিসির এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল, তাঁর উচ্চতা ছিল ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি (২২৩ সেন্টিমিটার)। তবে মৃত্যুর আগে তিনি আরও লম্বা হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। হাউসা ভাষায় ‘চলো যাই’ অর্থে ‘আউচে’ নামে ডাকতেন সবাই। দীর্ঘদিন ধরে মারফান সিনড্রোমের জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। এই জিনগত রোগের কারণে তাঁর হাত-পা অত্যন্ত লম্বা ছিল।
চিকিৎসার খরচ বহনে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামার ভাই ইব্রাহিম মাহামা এগিয়ে আসেন। তিনি তামালে টিচিং হাসপাতালে সামেদের চিকিৎসার সব খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দেন। চলতি মাসের শুরুতেই পরিকল্পিত চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন তিনি।
কুদুস বিবিসিকে বলেন, পায়ের ঘা সরাসরি মারফান সিনড্রোমের কারণে হয়নি, তবে এটি ওই অবস্থারই একটি জটিলতা ছিল। চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছিলেন বলে চিকিৎসকরা জানালেও সোমবার সকালেই মৃত্যু হয় তাঁর। ‘সবাই শোকাহত,’ বলেন কুদুস, গাম্বাগার বাসিন্দারা আকস্মিক এই মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছেন।
সামেদের উচ্চতা তাঁকে স্থানীয় তারকায় পরিণত করেছিল। কুদুস জানান, দেশের যেখানেই যেতেন, সবাই জানতে চাইতেন তিনি কোথা থেকে এসেছেন। জবাবে তিনি গাম্বাগার নাম বলতেন আর সবাই বুঝে যেতেন—এটাই সেই গ্রাম যেখানে সবচেয়ে লম্বা মানুষ থাকেন। এভাবে তিনি গোটা গ্রামকে পরিচিত করে তুলেছিলেন।
শুরুতে অবশ্য তিনি এত লম্বা ছিলেন না। ২২ বছর বয়স থেকে সমবয়সীদের চেয়ে দ্রুত বাড়তে শুরু করেন তিনি। রাজধানী আক্রার একটি কসাইখানায় কাজ করতেন তখন। তিনি বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, একদিন বুঝতে পারেন তাঁর জিহ্বা ফুলে গেছে, ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছেন না। কিছু দিনের মধ্যে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ বড় হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত মারফান সিনড্রোম ধরা পড়ে।
নয় বছর আগে উচ্চতার কারণে চালক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায়। বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি। সামাজিক জীবনও সংকুচিত হয়ে পড়ে। একসময় ফুটবল খেলতেন, অ্যাথলেটিক ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সামান্য দূরত্ব হাঁটতেও কষ্ট হতো। তবে বিবিসির প্রতিবেদনের সময়ে জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক ছিলেন এবং তারকাখ্যাতি উপভোগ করতেন।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তামালেতেই তাঁকে দাফন করা হবে। কারণ গাম্বাগায় এত বেশি শোকার্ত মানুষের সমাগম সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




