প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের সৃজনশীলতা ও যুক্তিভিত্তিক চিন্তার বিকাশে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সমান মর্যাদা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে প্রাথমিক পাঠ্যক্রম উন্নয়ন: সংস্কার যাত্রার সম্মিলিত পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক শিশু উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে প্রাথমিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী, শিশুবান্ধব এবং শিশুদের শেখার পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিশুদের যুক্তিভিত্তিক চিন্তা, জীবন দক্ষতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগও নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানান যেখানে পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রম সমান গুরুত্ব পাবে। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের মৌলিক শিক্ষা, চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের জন্য সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়ক এমন সময়োপযোগী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পাঠ্যক্রম প্রণয়নে সরকারকে তাগিদ দেন সেমিনারে উপস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জনে সহায়ক এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে সক্ষম করে তুলতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রমাণভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৮ সাল থেকে দেশে নতুন পাঠ্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমানে ২০১২ সালে প্রণীত পাঠ্যক্রমের একটি পরিমার্জিত সংস্করণ চালু আছে। এর আগে ২০২২ সালে পাইলটিংয়ের পর ২০২৩ সাল থেকে একটি নতুন পাঠ্যক্রম বিস্তরণ শুরু করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে ওই সরকারের পতনের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার মাধ্যমিক পর্যায়ে ওই শিক্ষাক্রম বাতিল করে একযুগ আগের পাঠ্যক্রমে ফিরে যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এরই প্রেক্ষাপটে শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের এই তাগিদ এল।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (ব্র্যাক আইইডি) প্রোগ্রাম প্রধান ও গবেষণা প্রধান সৈয়দা সাযিয়া জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (ন্যাপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ, ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) টিম লিডার (হিউম্যান ক্যাপিটাল) ও শিক্ষা উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস।




