বিলিয়নিয়ার কেসউইক পরিবারের জার্ডিন ম্যাথেসন গোষ্ঠীর সম্পত্তি বিভাগ হংকো ল্যান্ড, সিঙ্গাপুরের হুইলক প্লেস অধিগ্রহণ করছে। ওয়ার্ফ রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির কাছ থেকে ভবনটি কিনতে তারা প্রায় ১.১ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার বা ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করবে। হংকং-ভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণে আছেন আরেক বিলিয়নিয়ার পিটার উ।
বৃহস্পতিবার কোম্পানিটি এ সংক্রান্ত চুক্তির ঘোষণা দেয়। সিঙ্গাপুরের প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক অরচার্ড রোডের উপরে অবস্থিত ২১-তলা বহুমুখী এই ভবনের মোট তল এলাকা প্রায় ৪৩,০০০ বর্গমিটার। এতে আছে অফিস স্পেস ও একটি খুচরা বিপণন এলাকা। লেনদেনটি সম্পন্ন হবে হংকো ল্যান্ডের সিঙ্গাপুর চীফ প্রাইভেট রিয়েল ভেস্ট ফান্ড (এসচিপিআরইএফ) এর মাধ্যমে।
হংকো ল্যান্ড চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মূলধন পুনর্বাবহার ও শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্ন বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই এসচিপিআরইএফ চালু করেছিল। সেটির প্রথম ক্রয় হিসেবেই হুইলক প্লেস কেনা হচ্ছে। কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির মতো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানদের পাশাপাশি এই ফান্ডের বেশিরভাগ অংশীদারিত্বই রয়েছে হংকো ল্যান্ডের হাতে। সিঙ্গাপুরে এটিই সবচেয়ে বড় ধরনের বাণিজ্যিক রিয়েল এটা ফান্ড। প্রারম্ভিকভাবে এর ব্যবস্থাপনার আওতায় সম্পদের পরিমাণ (এইউএম) দাড়িয়েছে ৮.২ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। ফান্ডারটির পোর্টফোলিওতে ম্যারিনা ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার ও ওয়ান র্যাফেলস ক্কেয়ের মতো দামি সম্পদ রয়েছে।
হংকো ল্যান্ড জানিয়েছে, আগস্ট মাসের মধ্যে চুক্তিটি বাস্তবায়নের কথা আছে। এর ফলে এসচিপিআরইএফ-এর এইউএম বেড়ে দাঁড়াবে ৯.৪ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলারে। আগামী পাঁচ বছরে ফান্ডটি কমপক্ষে ১৫ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী মাইকেল স্মিথ এক বিবৃতি দিয়ে এই চুক্তির বিশেষত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “এমন মানের সম্পদ যারা বাজারে সহজে আসে না, সেগুলি অর্জনের লক্ষ্যেই এসচিপিআরইএফ তৈরি করা হয়েছিল। আর হুইল প্লেস ঠিক সেরকমই একটি সম্পদ।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ক্রয়টি ফান্ডের মাধ্যমে স্ট্রেটেজিক অরচার্ড রোড অঞ্চলে হংকো ল্যান্ডের সফল প্রথম প্রবেশ হিসেবে চিহ্নিত, যা সিঙ্গাপুরে তাদের বাণিজ্যিক উপস্থিতি আরও দৃঢ় করবে।
২০২৪ সালে দায়িত্ব পাওয়ার পর স্মিথের নেতৃত্বে হংকো ল্যান্ড ২০৩৫ সাল নাগাদ ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত সম্পদ রিসাইকেল করার লক্ষ্য স্থির করে। এসচিপিআরইএফ চালু করার বাইরেও, কোম্পানি গত সেপ্টেম্বরে তার সিঙ্গাপুরের আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমসিএল ল্যান্ডকে সানওয়ে গ্রুপের কাছে ৫৭৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেয়।
জুন মাস পর্যন্ত হংকো ল্যান্ডের হিসেবে, তারা ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রিসাইকেল করতে পেরেছে। এসব কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত অর্থ কোম্পানির বিদ্যমান পোর্টফোলিও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে হংকংয়ের সেন্ট্রাল ব্যবসায়িক জেলার প্রধান খুচরা কেন্দ্রের আধুনিকায়নের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে তালিকাভুক্ত নিজেদের শেয়ার ফেরত কেনাও রয়েছে।




