বিশ্বকাপের আসরে এবার বেশ সাড়া ফেলেছিল আফ্রিকা মহাদেশের দলগুলো। গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়া বাদে বাকি নয়টি দলই পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। কিন্তু নকআউট পর্বে এসে সেই সব দলের অধিকাংশই হেরে গেছে ম্যাচের শেষ প্রান্তে প্রতিপক্ষের করা গোলে। ১০টি দল নিয়ে নকআউট পর্ব শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছে কেবল মরক্কো।
মিসরের লড়াইটা ছিল দৃষ্টান্ত। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে লিড নিয়েছিল তারা। মেসি পেনাল্টি মিস করায় তাদের জয় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৭৮ মিনিটের পর খেলার চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। পরবর্তী ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে বসে মিসর। আর্জেন্টিনাই শেষ হাসি হেসে যায়। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল কেপ ভার্দে। স্পেন ও উরুগুয়ের পর আর্জেন্টিনাকেও তারা সংকটে ফেলে দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হয়। অতিরিক্ত সময়েও লড়াই চলে ২-২ গোলে। শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে হেরে বসে কেপ ভার্দে।
সেনেগালের গল্পটাও ভিন্ন নয়। বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়ে পুরো ৮৫ মিনিট প্রতিপক্ষের ওপর চেপে বসেছিল তারা। রোমেলু লুকাকু মাঠে নামার পর নিজেদের ছন্দ হারিয়ে ফেলে সেনেগাল। শেষ পাঁচ মিনিটে গোল শোধ করে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টির সুযোগ পেয়ে যায় তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় নিশ্চিত করে বেলজিয়াম শেষ ষোলোতে পা রাখে।
একই চিত্র দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট ও ডিআর কঙ্গোর ম্যাচেও দেখা গেছে। কানাডার বিপক্ষে ৯১ মিনিটে গোল হজম করে বিদায় নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটি আইভরি কোস্ট পায় ৮৬ মিনিটে। কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ড ৭৫ মিনিট পিছিয়ে থাকলেও হ্যারি কেইনের একক দক্ষতায় ম্যাচ বের করে নেয়।
গত নভেম্বরে ইতালির তৎকালীন কোচ জেন্নারো গাত্তুসো আফ্রিকার বিশ্বকাপ কোটা বাড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'একসময় আফ্রিকা থেকে মাত্র দুটি দল খেলত। এখন নয়টি দল খেলছে! আমরা বাছাইয়ে দ্বিতীয় হয়েও প্লে-অফ খেলতে বসি, আর আফ্রিকার দলগুলো সরাসরি সুযোগ পায়।' শেষ পর্যন্ত ইতালি বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। আফ্রিকার দলগুলো অবশ্য গ্রুপ পর্বে ভালো করলেও নকআউটে এসে দেখা দিয়েছে একই সমস্যা—শেষ মুহূর্তের চাপ। শুরু থেকে নিজেদের খেলা চাপিয়ে রাখলেও ম্যাচের শেষ প্রান্তে তারা যেন ধৈর্য ও কৌশলের অভাবে ভুগছে। প্রতিপক্ষ যখন চাপ বাড়ায়, তখন তাদের খেলা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ছে। সেই সুযোগেই জয়ের গোল হজম করে ফেলছে তারা। এভাবেই একের পর এক আফ্রিকান দলের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। শুধু মরক্কোই বাদ যায়নি সেই তালিকা থেকে। ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি বিতর্কও এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সব রেফারি আর্জেন্টিনার বলে অভিযোগ উঠেছে।




