বিলিয়নিয়ার ও মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও সমাজসেবী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের ২৩ বছর বয়সী কনিষ্ঠ কন্যা ফোবি গেটস তার এআই-চালিত শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কোম্পানি 'ফিয়া'কে নিজের পদবি বা পারিবারিক সুবিধা ছাড়াই এগিয়ে নিতে চান। ইয়াহু ফাইন্যান্সের 'ওপেনিং বিড আনফিল্টারড' পডকাস্টে ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার লক্ষ্য সিলিকন ভ্যালিতে উত্তরাধিকার নয়, বরং নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া। তিনি বলেন, 'আমার কাঁধে একটি চিপ আছে' — যা তাকে ক্রমাগত এগিয়ে যেতে প্রেরণা দেয়। ফিয়া বর্তমানে প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলার মূলধন নিয়ে কাজ করছে এবং এর জন্য ইতিমধ্যে ৪৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। বাবার কাছ থেকে তিনি শিখেছেন যে, দলই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি; অসাধারণ দল ছাড়া কিছুই অর্জন করা যায় না। তবে সম্প্রতি ব্লুমবার্গের এক তদন্তে উঠে এসেছে, ফিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফোবি গেটস ও তার স্ট্যানফোর্ডের রুমমেট সোফিয়া কিয়ানি 'কুকি স্টাফিং' নামে পরিচিত একটি অনুশীলনের মাধ্যমে এমন বিক্রয়ের কৃতিত্ব নিচ্ছিলেন যা তারা আসলে তৈরি করেনি। প্রতিষ্ঠানটি জুলাই মাসে জানিয়েছিল, তারা এই বিষয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে জানতে পেরেছে। কিন্তু ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক তদন্তে দেখা গেছে, বিষয়টি সম্পর্কে তাদের জানা ছিল সাত মাস ধরে। গত জুলাইয়ে ব্লুমবার্গের করা এক পরীক্ষায় দেখা যায়, চেকআউটের সময় ফিয়ার এক্সটেনশনটি নীরবে একটি ব্যাকগ্রাউন্ড ট্যাব খুলে নিজস্ব রেফারেল কোড ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যা অন্যান্য পাবলিশারদের বৈধ রেফারেলকে অগ্রাহ্য করছে — যা অনেক অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কের নীতিমালা লঙ্ঘন। ফিয়ার একজন মুখপাত্র জানান, গত ৭ জুলাই যেসব ফিচার ভুল অ্যাট্রিবিউশন ঘটাচ্ছিল সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি লেনদেন তারা পর্যালোচনা করছেন, ব্র্যান্ড পার্টনারদের সব ট্রানজেকশন ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে একজন কমপ্লায়েন্স প্রধান নিয়োগ করা হচ্ছে। ফিয়া মূলত একটি এআই শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, যা ক্রোম বা সাফারির মতো ব্রাউজারে যুক্ত হয়ে হাজার হাজার খুচরা ও রিসেল সাইটের দাম তুলনা করে। ফোবি গেটস ও কিয়ানি স্ট্যানফোর্ডের ডরম রুমে বসে বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে আলোচনার পর এই স্টার্টআপ গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফোবি গেটস তার মায়ের কাছ থেকে নারী ক্ষমতায়নের বিষয়ে অনুপ্রাণিত, আর কিয়ানি পরিবেশগত টেকসইতার দিকে মনোযোগী। নিজের নাম ও পরিচয়ের সুবিধা না নেওয়ার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছেন, তা মেনে চলতে তিনি ফিয়ার জন্য তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেননি। বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেই তহবিল সংগ্রহের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে 'কল হার ড্যাডি' পডকাস্টে ফোবি জানান, অনেক বিনিয়োগকারী তাদের ভবিষ্যৎ সন্তানধারণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন, যা তাকে কান্নায় ভাসিয়েছিল। তখন তার মা তাকে কঠোর পরামর্শ দেন — 'হয় উঠে দাঁড়াও, নয়তো খেলা ছেড়ে দাও'। এই উপদেশই এখন তার মন্ত্র। তিনি মনে করেন, এটি কোনো পারিবারিক উত্তরাধিকারের প্রকল্প নয়; বরং ভোক্তাদের সত্যিকার অর্থে ভালোবাসবে এমন কিছু তৈরি করার চ্যালেঞ্জ তার কাঁধে।