কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী স্লিপার বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রামু উপজেলার কলঘর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাসটি আইকন পরিবহনের অন্তর্গত ছিল এবং কক্সবাজারের কলাতলী মোড় থেকে রাত ১১টায় ৩০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে হঠাৎ করেই বাসটিতে আগুন দেখা দেয় বলে জানা গেছে।

আগুন লাগার পরপরই বাসের চালক ও সহকারী যাত্রীদের কিছু না জানিয়েই গাড়ি থেকে নেমে যান। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসটির দরজা ও জানালা বন্ধ থাকায় ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাস থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে ছুটে আসেন। তারা দ্রুত লাঠি দিয়ে বাসের জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের বের করে আনতে শুরু করেন।

চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবদুস সবুর নামে এক যাত্রী জানান, বাসে আগুন লাগার পর চালক-সহকারী গাড়ি থেকে নেমে যান। কিন্তু দরজা-জানালা সব বন্ধ থাকায় ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীরা বের হওয়ার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষজন এগিয়ে এসে জানালার কাচ ভাঙতে থাকেন। পরে ভাঙা জানালা দিয়েই সব যাত্রীকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও ছিলেন।

ঢাকার বাসিন্দা মো. রায়হান নামে আরেক যাত্রী জানান, দুই দিন আগে তিনি কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। ফেরার পথে রাতের বাসে উঠেছিলেন। কলঘর এলাকায় পৌঁছালে বাসের ভেতরে পোড়া গন্ধ পেতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় বাসে আগুন লেগে গেছে। তিনি আরও বলেন, চালক-সহকারী আগুনের খবর যাত্রীদের না জানিয়েই পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন না এগিয়ে এলে ঘটনা আরও ভয়াবহ হতে পারত।

মো. সোহেল রানা নামের এক যাত্রী জানান, তিনি পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং সবাই মিলে রাতেই ঢাকায় ফিরছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রামু হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ খান। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন বাসে আগুন জ্বলছে এবং ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেছেন। বাসের দরজা বন্ধ ছিল। স্থানীয় লোকজন জানালার কাচ ভাঙার পর সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার কাজ শেষে যাত্রীদের মালামালও বাসের ভেতর থেকে খুঁজে বের করে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যাত্রীরা অন্য বাসে করে গন্তব্যে রওনা দেন।

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদের চৌধুরী প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণেই বাসটিতে আগুন লেগেছে। তিনি নিশ্চিত করেন, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সব যাত্রী নিরাপদে আছেন।