রাজধানীতে পৃথক দুই ঘটনায় ফাঁসে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুশিক্ষার্থী ও এক কিশোরের। গতকাল শনিবার রাতে এসব ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে হাজারীবাগের টালি অফিস এলাকায়। সেখানে মো. নাঈম (১৭) নামের এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে দরজার ছিটকানি ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত একটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাঈমের বাবা আবদুল মান্নান জানান, তিনি ও তাঁর ছেলে দুজনেই ভ্যানে করে আম বিক্রি করতেন। ঘটনার সময় তিনি পাশের গলিতে ছিলেন এবং নাঈম বাসার সামনে ছিল। নাঈমের মা গ্রামের বাড়িতে থাকায় বাসায় কেউ ছিল না। রাতে বৃষ্টির কারণে বাসায় ফিরে এসে তিনি দেখেন, ছেলের ভ্যানটি বাইরে নেই, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজন দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আবদুল মান্নান বলেন, কী কারণে তাঁর ছেলে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। নাঈমের বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামে। সে পরিবারের সঙ্গে হাজারীবাগের টালি অফিস এলাকায় থাকত। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নাঈম ছিল সবার ছোট।
অন্যদিকে, হাতিরঝিলের মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় আল-ফুরকান মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাহমিদুল ইসলাম (১০) ফাঁস দিয়ে মারা গেছে। হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক সুমন মিয়া জানান, তাকে মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করে শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে রামপুরার ডিআইটি রোডের বেটার লাইফ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণার পর তার মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কাজীপুর গ্রামের শাহিন রেজার ছেলে তাহমিদুল আল-ফুরকান মসজিদ মাদ্রাসায় থাকত। শিশুটির বাবার বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, মাদ্রাসার একটি জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় তাহমিদুল। পরে সহপাঠীরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসআই সুমন মিয়া বলেন, মৃত্যুর কারণ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহ দুটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।




