বিসিএসকেন্দ্রিক দীর্ঘস্থায়ী সেশনজট দূর করতে পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বর্তমানে এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএসের সম্পূর্ণ চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশ করাই এখন পিএসসির প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৫০তম বিসিএসের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে ৫১তম বিসিএসেও একই গতিশীল ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে ৫১তম বিসিএসের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। পিএসসি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও এই বিসিএসে মোট কতজন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাবেন, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত হয়নি। কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত বিসিএস আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইতিমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ক্যাডারভিত্তিক শূন্য পদের চাহিদা পিএসসিতে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ও শূন্য পদের তালিকা পাওয়ার পরই মোট পদসংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে। পদসংখ্যা নির্ধারণ হয়ে গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিএসের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করবে কমিশন।
বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এই বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে মোট ২ হাজার ১৫০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫টি ক্যাডার পদের বিপরীতে সর্বাধিক ৬৫০ জন নিয়োগ পাবেন স্বাস্থ্য ক্যাডারে। এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন এবং শিক্ষা ক্যাডারেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জনবল নেওয়া হবে। ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আগামী নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কমিশন।
তবে পিএসসি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের পরিক্রমা ধরে রাখলেও চূড়ান্ত নিয়োগ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। পিএসসির চূড়ান্ত সুপারিশের পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজে প্রচুর সময় ব্যয় হয়। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা ও চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দায়িত্ব পালন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ভেরিফিকেশনে অতিরিক্ত সময় লাগার কারণে পিএসসির দ্রুত ফল প্রকাশের প্রকৃত সুফল প্রার্থীরা পাচ্ছেন না। কমিশনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে ৪৫তম, ৪৬তম ও ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমছে না। ক্যাডারপ্রত্যাশীদের মতে, পিএসসি এক বছরে একটি বিসিএস শেষ করার নিয়ম চালু রাখলেও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাজে গতি আনতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় গতি না এলে দ্রুত চাকরিতে যোগ দেওয়ার আশা অপূর্ণ থেকে যাবে। তাই পিএসসির পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি ও সমন্বয় বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।




