আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি জেফ বেজোস কোটি কোটি ডলার খরচ করেও মায়ামির সবচেয়ে অভিজাত এলাকাগুলোর একটিতে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। বিশেষ করে 'ইন্ডিয়ান ক্রিক কান্ট্রি ক্লাব'-এর সদস্যপদ পাওয়ার দৌড়ে তিনি এখনও পিছিয়ে আছেন। এই ক্লাবটি অবস্থিত ইন্ডিয়ান ক্রিক আইল্যান্ডে, যাকে অতি ধনীদের আস্তানা বা 'বিলিয়নিয়ার বাংকার' বলা হয়।

সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, বেজোস এই দ্বীপে মোট ২৩৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে তিনটি সম্পত্তি কিনেছেন। তাঁর এই কেনাকাটার যাত্রা শুরু হয় ২০২৩ সালে, যখন তিনি ৬৮ মিলিয়ন ডলারে প্রথম বাড়িটি কেনেন। পরবর্তীতে তিনি পাশের ১৯ হাজার বর্গফুটের আরেকটি বাড়ি ৭৯ মিলিয়ন ডলারে এবং ২০২৪ সালে আরও একটি প্রপার্টি ৮৭ মিলিয়ন ডলারে ক্রয় করেন। গোপনীয়তা, কঠোর নিরাপত্তা এবং চরম ঐশ্বর্যের জন্য পরিচিত এই এলাকায় বেজোস বর্তমানে একজন অন্যতম প্রধান নতুন বাসিন্দা। উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান ক্রিক ভিলেজ একটি স্বতন্ত্র পৌরসভা যা প্রায় ৩০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং এখানে নিজস্ব পুলিশ বাহিনী রয়েছে। তবে দ্বীপে সম্পদ থাকা মানেই এই বিশেষ ক্লাবের সদস্য হওয়া নয়।

এই বছরের শুরুর দিকে বেজোসের সদস্য হওয়ার চেষ্টা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে ক্লাবের বার্ষিক 'ডক পার্টি'-তে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন বেজোস ও তাঁর স্ত্রী লরেন সানচেজ বেজোস। সেখানে তিনি রিয়েল এস্টেট নির্বাহী রিচার্ড লেফরাক এবং ব্যবসায়ী এডি ল্যাম্পার্টের মতো প্রভাবশালী সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। উপস্থিত অনেকের মতে, এই আয়োজনটি তিনি সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সদস্যপদের সম্ভাবনা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো ওই ক্লাবের সদস্য তালিকায় স্থান পাননি। এই বিষয়ে বেজোস বা ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ১৮-হোল গলফ কোর্স এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা। বর্তমানে এখানে প্রায় ৩৫০ জন সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসক, আইনজীবী, অর্থলগ্নিকারী এবং দক্ষিণ ফ্লোরিডার প্রভাবশালী উদ্যোক্তারা অন্তর্ভুক্ত। ক্লাবের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখানে সদস্য হতে হলে প্রায় ১০ লাখ ডলার প্রবেশ ফি এবং বছরে প্রায় ৪৪ হাজার ডলার চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া দুজন বর্তমান সদস্যের স্পনসরশিপ এবং পাঁচজনের সুপারিশপত্র প্রয়োজন হয়। এরপর ছয় সদস্যের একটি কমিটি এবং সবশেষে ১৫ সদস্যের বোর্ডের ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কেবল বিপুল সম্পদ বা বিশ্বখ্যাত নাম থাকলেই এই ক্লাবে প্রবেশ করা যায় না। ক্লাবের পুরনো সদস্যরা নতুন ধনকুবেরদের ব্যাপারে সতর্ক, কারণ তাঁদের আশঙ্কা নতুনদের আগমনে এই অভিজাত সম্প্রদায়ের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য বদলে যেতে পারে। বেজোসের মতো আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই দ্বীপে সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সদস্য হতে পারেননি। মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ, জ্যারেড কুশনার এবং ইভানকা ট্রাম্পও এখনো এই ক্লাবের সদস্য হতে পারেননি। জাকারবার্গ ১৭০ মিলিয়ন ডলারে একটি অসম্পূর্ণ এস্টেট কিনেছিলেন, যার আগের মালিক অ্যারন রলিন্স দীর্ঘ বছর চেষ্টা করেও সদস্যপদ পাননি। অন্যদিকে, কুশনার এবং ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন; ট্রাম্প সদস্যদের সঙ্গে গলফ খেলেছেন এবং কুশনার স্থানীয় সরকারের পাশাপাশি দ্বীপের নিকাশী ব্যবস্থা সংস্কারের কাজে যুক্ত হয়েছেন। বিপরীতে, গোল্ডম্যান স্যাকস সিইও ডেভিড সলোমন দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সদস্যপদ পেয়েছেন। এছাড়া এনএফএল কিংবদন্তি টম ব্র্যাডি এবং জার্সি মাইকস চেয়ারম্যান পিটার কানক্রো-ও এই বিশেষ ক্লাবে ঠাঁই পেয়েছেন।