যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ও বিতর্কিত শুল্ক আরোপের পথ বন্ধ করে দেওয়ার পর ট্রেজারি বিভাগের রাজস্ব খাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক বসিয়েছিলেন। সে সময় ট্রেজারিতে মাসিক শুল্ক আয় সর্বোচ্চ ৩১.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল গত অক্টোবরে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর পরিস্থিতি উল্টে যায়। মার্চ ও এপ্রিলে আয় কমে ২২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়, এবং মে মাসে সামান্য ৪২ মিলিয়ন ডলার ঘাটতির পর জুন মাসে বিপুল ২৫.৬ বিলিয়ন ডলার লোকসান দেখে ট্রেজারি। কারণ আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়ার পরিমাণ নতুন শুল্ক আয়কে ছাড়িয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্পের বাণিজ্য দল কি এই রাজস্ব ফাঁক পূরণ করতে পারবে? সামনে কঠিন সময়সীমা: ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে সেকশন ১২২-এর আওতায় আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হবে। কংগ্রেস তা বাড়ানোর সম্ভাবনা কম, কারণ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তবে প্রশাসনের হাতে আরও টেকসই বিকল্প রয়েছে: ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১, যা প্রেসিডেন্টকে সেই সব দেশের ওপর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয় যারা 'অন্যায্য' বা 'অবিবেচনাপ্রসূত' বাণিজ্য অনুশীলন করে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চীনের ওপর বড় শুল্ক বসাতে সেকশন ৩০১ ব্যবহার করেছিলেন। সম্প্রতি বুধবার রাতে তিনি ব্রাজিলের কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছেন। বাণিজ্য আইনজীবী ও বিশ্লেষকরা নিশ্চিত যে ট্রাম্প প্রশাসন সময়সীমার আগেই সেকশন ১২২-এর পরিবর্তে বৃহত্তর সেকশন ৩০১ শুল্ক বসাতে সক্ষম হবে। 'তারা শুল্ক প্রাচীর আবার উঁচু করবে,' বলেছেন কিং অ্যান্ড স্প্যাল্ডিংয়ের অংশীদার ও ট্রাম্প ও বাইডেন প্রশাসনের সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা রায়ান মাজেরাস। প্রশাসন বর্তমানে দুটি বড় সেকশন ৩০১ তদন্ত চালাচ্ছে রাজস্ব ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে। একটি তদন্তে ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তারা জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এই দেশগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯% আমদানি হয়। অন্যটি তদন্তে ১৬টি বাণিজ্য অংশীদার (চীন, ইইউ, জাপানসহ) অতিরিক্ত উৎপাদন করে বৈশ্বিক দাম কমিয়ে দেওয়ার এবং আমেরিকান উৎপাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে। জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ইতিমধ্যে প্রস্তাব দিয়েছেন: ১৬টি দেশের ওপর ১০% এবং ৪৪টি দেশের ওপর ১২.৫% শুল্ক। এই হার সেকশন ১২২-এর ১০% শুল্কের সমান বা সামান্য বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জনমত সংগ্রহ চলছে। সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা ও বেকার ম্যাককেঞ্জির অংশীদার নাথানিয়েল হ্যালভারসন মনে করেন গ্রিয়ারের অফিস সময়মতো জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত শুল্ক চালু করতে পারবে, যাতে সেকশন ১২২-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে ব্যবধান না থাকে। তিনি বলেন, 'তারা আইনগতভাবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ করছে।' অন্য তদন্তটি এখনও শেষ হয়নি। মাজেরাসের মতে, আরও বড় শুল্ক প্রস্তাব এক থেকে দুই মাসের মধ্যে আসতে পারে, তবে তা সম্ভবত মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কার্যকর হবে—'সুস্পষ্ট কারণে।' ট্রাম্প নিজেকে 'ট্যারিফ ম্যান' বলে অভিহিত করে ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী শুল্ক ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিশ্লেষক সারাহ বিয়ানচি সতর্ক করেছেন, নতুন সেকশন ৩০১ তদন্তগুলো সার্বজনীন শুল্ক আরোপের অজুহাত হতে পারে এবং আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তিনি বলেন, 'সেকশন ৩০১ আইনগতভাবে বেশ টেকসই প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু কেউ এখনও এটিকে সার্বজনীন শুল্ক বসাতে ব্যবহার করেনি। আমি মনে করি আইনি চ্যালেঞ্জ আসবে।'