চীনের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী ও প্রাইমাভেরা ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেড হু সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি বৈরিতার ক্ষেত্রে চীনের জন্য সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হবে অর্থায়ন (ফাইন্যান্স), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নয়।

হু-এর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বা এআই উন্নয়নে চীনের সক্ষমতা যাই হোক না কেন, পুঁজির প্রাপ্যতা ও আর্থিক খাতের গভীরতাই হবে মূল পার্থক্যকারী উপাদান। যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও গভীরতম পুঁজিবাজার, যা যে কোনো রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এই বিপুল আর্থিক ইকোসিস্টেমের বিপরীতে চীনের আর্থিক বাজার এখনো অনেকাংশে অপরিণত এবং তুলনামূলকভাবে অগভীর।

ফ্রেড হু আরও ব্যাখ্যা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রযুক্তি বা উদ্ভাবনী ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, সেই উদ্ভাবনকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে যে পরিমাণ পুঁজির প্রয়োজন, তা জোগানের সক্ষমতা চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বেশি। তিনি এটিকে চীনের জন্য একটি কাঠামোগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাল্লা দিতে হলে চীনের জন্য অর্থায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। এর অর্থ হলো, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ সংগ্রহ, শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং পুঁজিবাজারের গভীরতা বৃদ্ধি করা। অন্যথায়, কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন দিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

প্রাইমাভেরা ক্যাপিটাল চীনের একটি প্রভাবশালী বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, এবং ফ্রেড হু দেশটির আর্থিক খাত ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তির খাতে বিপুল বিনিয়োগ করলেও, বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বারবারই দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত আর্থিক খাতের সীমাবদ্ধতা ও পুঁজিবাজারের অপরিপক্বতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছিলেন। ফ্রেড হু-এর এই বক্তব্য সেই ধারায় একটি শক্তিশালী সংযোজন।