চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এক্সপেং দাবি করছে, তারা শীঘ্রই এমন একটি মডেল বাজারে আনবে যা টেসলার সর্বাধিক বিক্রিত মডেল ওয়াইকে ছাড়িয়ে যাবে। ফক্সভাগেনের বিনিয়োগ থাকা এই কোম্পানিটি এখন ইউরোপের বাজারে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতে উদ্যত হয়েছে। চীনের ইভি বাজারে বিওয়াইডি ও অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের মুখে থাকলেও, ছয় বছর আগে বাজারে আসা মডেল ওয়াই এখনো বিশ্বের বহু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বৈদ্যুতিক গাড়ি। চীনেও এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক বিক্রিত ইভি।

জার্মানির মিউনিখে নতুন গাড়ি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এক্সপেংয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা হে শিয়াওপেং বলেন, ‘আমার মনে হয়, মডেল ওয়াইকে ছাড়িয়ে যেতে আমাদের আর বেশি সময় লাগবে না।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, চীনা কোম্পানিগুলো শিগগিরই এই মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম মডেল আনতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি সত্যিই এটা বিশ্বাস করি।’ চীনের নতুন প্রজন্মের ইভি স্টার্টআপগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানি হিসেবে পরিচিত এক্সপেং। উন্নত সফটওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের দামি গাড়ির বাজারে বিএমডব্লিউ ও মার্সিডিজ-বেঞ্জের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চায় তারা।

গত বৃহস্পতিবার এক্সপেং তাদের সবচেয়ে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক এসইউভি এল০৩ উন্মোচন করেছে, যার প্রারম্ভিক দাম ৩৫ হাজার ৬০০ ইউরো। একই সঙ্গে চীন ও ইউরোপের বাজারে ছাড়া হচ্ছে এই মডেল, যা এক্সপেংয়ের জন্য প্রথম। অন্যদিকে টেসলার মডেল ওয়াইয়ের প্রারম্ভিক দাম ৩৯ হাজার ৯৯০ ইউরো। ফলে এল০৩ সরাসরি মডেল ওয়াইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চীনের অটোমোটিভ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অটোএক্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা লেই শিং বলেন, ‘বিক্রির দিক থেকে এল০৩ বড় সাফল্য পেতে পারে। অবশ্যই বলা যায়, এই গাড়ি মডেল ওয়াইয়ের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হবে। তবে এখন শুধু এই গাড়িই মডেল ওয়াইকে টেক্কা দিতে পারে, বিষয়টি তেমন নয়।’

উড়ন্ত গাড়ি ও মানুষের মতো রোবটেও বিনিয়োগ করছে এক্সপেং। এল০৩সহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক গাড়ির মডেল ও ব্যাটারির পরিসর বৃদ্ধির প্রযুক্তিসংবলিত বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করছে তারা। পাশাপাশি কোম্পানিটি উড়ন্ত গাড়ি এবং অবিকল মানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড রোবটও তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তি ইউরোপের বাজারে আনার পরিকল্পনা আছে তাদের।

ইউরোপের প্রিমিয়াম গাড়ির বাজারে ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের বাইরের কোম্পানিগুলো তেমন একটা সফল হতে পারেনি, যেমন টয়োটা ও হুন্দাই। এই বাজারে দীর্ঘদিন ধরে জার্মান ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য। ভলভো কারসের প্রধান নির্বাহী হাকান স্যামুয়েলসন সতর্ক করে বলেন, দামি গাড়ির বাজারে চীনা কোম্পানিগুলো আসবে না বা নেই, এমন ধারণা করা ভুল হবে। হাকান আরও বলেন, ‘চীনা গাড়িতে এমন অনেক প্রযুক্তিগত সুবিধা আছে, দামি গাড়ির ক্রেতারা যার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। আমরা তাদের বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ ও আউডির সঙ্গে একই কাতারে রাখি। এক্সপেংও আমাদের কাছে এখন তেমন এক প্রতিযোগী।’

এক্সপেং বর্তমানে ফক্সভাগেনসহ কয়েকটি গাড়ি কোম্পানির সঙ্গে ইউরোপে তাদের দ্বিতীয় কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করছে। হে শিয়াওপেং জানান, কারখানাটি সম্ভবত জার্মানিতে হবে। ২০২৭ সাল থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ইউরোপে তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের ভিশন-ল্যাঙ্গুয়েজ-অ্যাকশন (ভিএলএ) সফটওয়্যার চালু করতে চায় এক্সপেং। এটি টেসলার পূর্ণাঙ্গ স্বচালিত গাড়ির সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবে। এক্সপেংয়ের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চিপ ইতিমধ্যে চীনে ফক্সভাগেনের নতুন কিছু মডেলে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোম্পানিটি ভবিষ্যতে অন্য গাড়ি কোম্পানিগুলোকেও স্মার্ট ড্রাইভিং সফটওয়্যার লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।