মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসভবনে গত ৫ জুলাই ব্যক্তিগতভাবে অভিনেতা আমির খান তৃতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে ঘিরে এখন মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রথমে বিজেপির নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী নীতেশ রাণে এর সমালোচনা করেন। এরপর সোমবার সম্ভাজীনগরে একই প্রসঙ্গে কটাক্ষ ছুড়ে দেন শিবসেনা নেতা ও মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাট।

শিরসাট সাংবাদিকদের বলেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও সমাজের ওপর গভীর প্রভাব রাখে। নীতেশ রাণের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, 'নীতেশ রাণে কিছুটা সঠিক কথা বলেছেন। মানুষ যখন কোনো অভিনেতাকে অনুসরণ করেন, তখন তাকে শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, একজন আদর্শ হিসেবেও গণ্য করেন।' আমিরের তৃতীয় বিবাহ প্রসঙ্গে তাঁর তীব্র ভাষ্য, 'কোনো তারকা যদি একনাগাড়ে তিনবার বিয়ে করেন, তাহলে অনুসারীরা তাঁর কাছ থেকে কী দৃষ্টান্ত গ্রহণ করবে? তিনি ‘লাভ জিহাদ’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে পারেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের অন্তরে স্থান করে নিতে পারবেন না।'

এর আগে নীতেশ রাণেও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জনপ্রিয়দের এমন ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড সমাজ কীভাবে মূল্যায়ন করে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। পাশাপাশি তিনি আমিরের সাম্প্রতিক বিয়েটিকে ‘লাভ জিহাদ’-এর আওতায় দেখা যায় কি না, সেই প্রশ্নও উত্থাপন করেন। নীতেশ রাণের ওই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার জন্ম দেয়। শিবসেনা নেতার মন্তব্যের পর সেই বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে।

উল্লেখ্য, মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসভবনে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে নিবন্ধনের মাধ্যমে আমির খানের বিবাহ সম্পন্ন হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্য ও সন্তানেরা। অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আমির বলেন, 'এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত স্মরণীয় একটি দিন। সবাই আমাদের জন্য প্রার্থনা করবেন, যাতে আমরা সুখী হই এবং জীবনের নতুন অধ্যায় সুন্দর হয়।'

এটি আমিরের তৃতীয় দাম্পত্য সম্পর্ক। ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তের সঙ্গে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়, যার ঘরে জুনায়েদ ও ইরা নামের দুই সন্তান রয়েছে। ২০০২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। তাঁদের একমাত্র পুত্র আজাদ রাও খান। ২০২১ সালে কিরণ ও আমির আলাদা হলেও পুত্রের যৌথ অভিভাবকত্ব বজায় রেখেছেন। তবে নীতেশ রাণে ও সঞ্জয় শিরসাটের মন্তব্য সম্পর্কে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি আমির বা তাঁর প্রতিনিধিরা।