সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট এবং বিগ টেক খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তাবিত সম্পদ করের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী লড়াই শুরু করেছেন। ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্সের নথিপত্র অনুযায়ী, এই কর রুখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিতে (PAC) কোটি কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছেন পিটার থিল (পালান্টিয়ারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা), ক্রিস লারসেন (ক্রিপ্টো কোটিপতি), সের্গেই ব্রিন (গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা) এবং জন ডোর (প্রথিতযশা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট)।

প্রস্তাবিত 'প্রপোজিশন ৪০' অনুযায়ী, এই আইন পাস হলে রাজ্যের কোটিপতিদের মোট সম্পদের ৫ শতাংশ এককালীন কর হিসেবে দিতে হবে। এই উদ্যোগের বিরোধিতা করতে ক্রিস লারসেন ব্যক্তিগতভাবে এবং তার সহ-প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান রিপল ল্যাবসের পক্ষ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার করে মোট ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন 'গোল্ডেন স্টেট প্রমিজ' নামক কমিটিতে। অন্যদিকে, শিক্ষক, চিকিৎসক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী আরেকটি কমিটি 'বিল্ডিং এ বেটার ক্যালিফোর্নিয়া' থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে, যার প্রধান দাতাদের তালিকায় রয়েছেন সের্গেই ব্রিন এবং জন ডোর। এছাড়া পিটার থিল 'ক্যালিফোর্নিয়া বিজনেস রাউন্ডটেবল ইস্যু পিএসি'-তে ৩ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন, যে সংস্থাটি গোল্ডেন স্টেট প্রমিজকে ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রদান করেছে। উল্লেখ্য, এই কর প্রস্তাবের আগেই পিটার থিল এবং সের্গেই ব্রিন ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক ও আর্থিক সম্পর্ক কমিয়ে এনেছেন বা ছিন্ন করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রপোজিশন ৪০ কার্যকর হলে আগামী পাঁচ বছরে ক্যালিফোর্নিয়া প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে। এই অর্থের ৯০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবায় এবং বাকি অংশ খাদ্য সহায়তা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যার মোট সম্পদ ১.১ বিলিয়ন ডলার, তাকে কর হিসেবে ৫৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করতে হবে। নভেম্বরের ব্যালটে এই প্রস্তাবটি বাতিল হলে কোটিপতিরা এই বিশাল আর্থিক দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন।

এই করের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এখন সিলিকন ভ্যালি ছাড়িয়ে ওয়াশিংটন পর্যন্ত পৌঁছেছে। কোটিপতি উদ্যোক্তা মার্ক কিউবান এবং প্রতিনিধি রো খানা এই বিষয়ে তীব্র দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। কিউবানের দাবি, অনেক উদ্যোক্তা কাগজে-কলমে কোটিপতি হলেও তাদের হাতে নগদ অর্থ থাকে না। তার মতে, এই কর পাস হলে প্রতিভাবান স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং বিনিয়োগকারীরা ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে চলে যাবেন। তবে রো খানা এর বিপরীতে যুক্তি দিয়েছেন যে, নগদ অর্থের অভাব রয়েছে এমন কোটিপতির সংখ্যা খুবই কম। তিনি প্রস্তাব করেছেন, যারা নগদ অর্থ দিতে পারবেন না, তারা তাদের স্টার্টআপের শেয়ারের বিনিময়ে সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কর পরিশোধ করতে পারেন।

ইউসি বার্কলির জেমস এম. এবং ক্যাথলিন ডি. স্টোন সেন্টারের পরিচালক ইমানুয়েল সায়েজ জানান, এই করটি কেবল প্রায় ২৫০ জন কোটিপতির ওপর প্রযোজ্য হবে, যারা এই রাজ্য থেকে তাদের সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তিনি জানান, যাদের হাতে তাৎক্ষণিক অর্থ নেই, তারা 'ডেফারেল অপশন' বা বিলম্বিত পেমেন্টের সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে ব্যবসা থেকে লভ্যাংশ বা স্টক বিক্রির মাধ্যমে যা পাবেন, তার ৫ শতাংশ কর হিসেবে দিতে হবে। আর ব্যবসা ব্যর্থ হলে কোনো কর দিতে হবে না।

এদিকে, রো খানা এবং সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এই লড়াইকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদসম্পন্ন ব্যক্তিদের ওপর বার্ষিক ৫ শতাংশ সম্পদ কর আরোপের জন্য একটি ফেডারেল আইনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যার আংশিক অর্থ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হবে।