অভ্যন্তরীণ অদক্ষতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের ভাগ্য আটকে যাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ ছয়-সাতটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পর এবার বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) ঘিরেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। একই শূন্যপদের বিপরীতে তৃতীয় দফায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীদের মাঝে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
বিজেআরআই সূত্রে জানা যায়, ১৯ জুলাই জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ১১টি ক্যাটাগরির আওতায় মোট ৪১টি পদে লোকবল নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এর আগেও একই পদগুলোর জন্য দুই দফা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল কর্তৃপক্ষ। প্রথমবার ২০২৪ সালের ২ জুন ৫০টি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি আসে। দ্বিতীয় দফায় ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট পদসংখ্যা বাড়িয়ে ৫৪ করা হয়। সেই দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তির আলোকেই চলতি বছরের ১৩ ও ২০ জুন লিখিত পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, পরীক্ষা শুরুর মাত্র তিন দিন আগে, ১০ জুন তা হঠাৎ করে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
কর্তৃপক্ষের যুক্তি, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনেকের আবেদন করার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে পরীক্ষা স্থগিত করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাখ্যাকে ‘খোঁড়া অজুহাত’ বলেই মনে করছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, এই ধারাবাহিক খামখেয়ালিিপনার কারণে তাদের পড়াশোনার প্রস্তুতি, ব্যয় করা অর্থ ও মূল্যবান সময়—সবকিছুই পণ্ড হয়ে যাচ্ছে।
নিয়োগের এই দীর্ঘসূত্রতার চিত্র শুধু পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটেই সীমাবদ্ধ নয়। গত এক মাসের ব্যবধানে সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, এবং মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ অন্তত সাতটি সরকারি সংস্থা একই পথ অনুসরণ করে পুনর্নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এমনকি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর প্রথম বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর নতুন করে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
এই অচলাবস্থা নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া। তিনি এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মন্তব্য করেন, 'যৌক্তিক কারণ ছাড়া এভাবে বছর ও পর বছর ধরে নিয়োগ কার্যক্রম ঝুলিয়ে রাখা চরম অদক্ষতা ও অবহেলার পরিচায়ক। বহু ক্ষেত্রে আইনের ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে বা অদৃশ্য প্রভাব বিস্তারের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া হয়, যা মোটেও মেনে নেওয়ার মতো নয়।'
বিশেষজ্ঞরা এই প্রতিকূল বাস্তবতায় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কিছু পরামর্শ রেখেছেন। তাদের বক্তব্য হলো, কেবল একটি নির্দিষ্ট নিয়োগ পরীক্ষার আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ না থেকে বরং একাধিক পরীক্ষার প্রস্তুতি একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি, আবেদনপত্র ও প্রবেশপত্রের মতো জরুরি নথিপত্র সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ এবং নিয়োগ সংক্রান্ত আপডেট সম্পর্কে নিয়মিত অবগত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।




