রাজবাড়ীর পাংশায় একদল অটোরিকশাচালক ও কলেজশিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীন দৃশ্য ভিডিওবন্দি করার ‘অপরাধে’ এক সংবাদকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যাবেলায় পৌর এলাকার মৈশালা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত সাংবাদিকের নাম মো. আকাশ মাহমুদ, বয়স ২৫। তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার এবং এনপিবি নামক একটি অনলাইন পোর্টালে রাজবাড়ী জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন। এই ঘটনায় কলেজছাত্র সাগর শিকদারসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। সাংবাদিক আকাশ ও ছাত্র সাগরের আঘাত অপেক্ষাকৃত গুরুতর হওয়ায় তাদের পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই চলে যান।
ভুক্তভোগী আকাশ মাহমুদ নিজের বরাতে জানান, ঘটনার একদিন আগে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কয়েকজন অটোরিকশাচালক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন। সেই অভিমান থেকে পরের দিন বিকেলে ছাত্র প্রতিনিধিরা বাসস্ট্যান্ডে যান এবং চালকদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। আলাপচারিতা বাগ্বিতণ্ডায় রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে চালকেরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আকাশ বলেন, “আমি যখন মোবাইল ফোনে এই মারামারির দৃশ্যটি রেকর্ড করার উদ্যোগ নিলাম, তখনই তারা আমার ওপর চড়াও হয়। তারা আমার ফোন থেকে ভিডিও ফাইলটি ডিলিট করে ফেলে এবং পুনরায় আমাকে আক্রমণ করে। কোনোক্রমে দৌড়ে গিয়ে আমি প্রাণে বাঁচি।”
ঘটনা সম্পর্কে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মঈনুল ইসলাম ব্যাখ্যা করেন, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল নাদুরিয়া ঘাটে একজন নারী যাত্রীর সাথে ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কি থেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ছাত্ররা মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে অটোরিকশা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। সেই ঝামেলার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে একজন সাংবাদিক নির্যাতিত হন। ওসি আরও বলেন, নারী যাত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণকারী অটোচালককে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত কোনো এজাহার জমা দেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।”




