কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে সোমবার (১০ আগস্ট) একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৪। ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছাকাছি এলাকায়, তবে এর কম্পন অনুভূত হয়েছে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের শহরগুলোতেও।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকেন্দ্রের নিকটবর্তী জনবসতিগুলোতে ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে এবং রাস্তাঘাটে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রাজধানী বোগোতাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরেও মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ভবন থেকে বেরিয়ে আসে। বহু মানুষ এখনও রাস্তায় অবস্থান করছে, কারণ আফটারশকের আশঙ্কায় তারা ঘরে ফিরতে চাইছে না। ভূমিকম্পের ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জরুরি সেবা বিভাগ বলছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি, তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে এটি যথেষ্ট বড়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার পক্ষ থেকে দেশব্যাপী সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সুনামির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অফ ফায়ার' অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় কলম্বিয়ায় এ ধরনের ভূমিকম্প অস্বাভাবিক নয়, তবে এত উচ্চ মাত্রার ভূকম্পন নিয়মিত ঘটে না। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৩০ কিলোমিটার গভীরে, যা ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বাসিন্দারা উচ্চ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।