রাজধানীর নগরবাসীর ওপর নতুন কোনো করের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি জেনে স্বস্তি পেতে পারেন, কারণ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার একটি বাজেট ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার নগর ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির প্রশাসক আবদুস সালাম এই বাজেট উপস্থাপন করেন। এর আগে গত ২৬ জুলাই করপোরেশনের ১৪তম সভায় প্রস্তাবিত এই বাজেটটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের চিত্র তুলে ধরে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ওই বাজেটের আকার শুরুতে ছিল ৩ হাজার ৮৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা পরবর্তী সময়ে সংশোধনপূর্বক কমিয়ে ৩ হাজার ১৩৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। নতুন এই বাজেটে প্রারম্ভিক স্থিতি অন্তর্ভুক্ত করে সর্বমোট আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আয়ের খাতগুলোর মধ্যে, রাজস্ব খাত থেকে ১ হাজার ৮১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাত থেকে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এছাড়াও, প্রারম্ভিক স্থিতি হিসেবে দেখানো হয়েছে ৭৩০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
ব্যযয়ের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানা যায়, পরিচালন ও মূলধন খাতে ১ হাজার ৫৫৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে, এবং উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ থাকছে ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অর্থবছর শেষে সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ৫৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
নিজের বাজেট বক্তৃতায় ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের চেষ্টা ছিল উচ্চাভিলাষী ও বড় অংকের বাজেট না বানিয়ে একটি বাস্তবায়নযোগ্য ও যৌক্তিক বাজেট তৈরিকরা। নগরবাসীর উপর কোনো করের হার বাড়ানো তো দূরের কথা, নতুন কোনো করও আরোপ করা হয়নি। বরং, আমরা সিটি করপোরেশনের আত্মকর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন নতুন রাজস্ব খাত চিহ্নিত করেছি এবং নানা অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমিয়েছি।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি’ ধারণাকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, পানি জমা নিরসন, ডেঙ্গু ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও যান চলাচল ব্যবস্থার উন্নয়ন, এবং নাগরিক সুবিধা ও সেবার গুণগত মানোন্নয়নকে এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নগরবাসীকে সম্বোধন করে প্রশাসক আবদুস সালাম আরও মন্তব্য করেন, “ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উপস্থাপিত এই বাজেট শুধু আয় ও ব্যয়ের একটি শুষ্ক হিসাব নয়। এটি সম্মানিত করদাতাদের দিক থেকে দেওয়া পবিত্র এক দায়িত্ব ও আস্থারই প্রতিফলন।” তিনি এই বাজেটের প্রতিটি টাকা জনগণের মঙ্গলের জন্য সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করার দৃঢ় অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।




