ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে অপ্রত্যাশিত এক নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২১ আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে মাঠে গড়ানোর কথা থাকলেও, ঠিক এই মুহূর্তে এসে দলীয় সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। শনিবার রাতে আয়োজিত এক জরুরি সভায় আসন্ন বাংলাদেশ লিগে অংশ নিতে তিনটি ক্লাবকে নতুন করে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্লাব তিনটি হলো গত মৌসুমে অবনমিত আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাব এবং ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। বাফুফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, 'বাংলাদেশ ফুটবল লিগ ২০২৫-২৬ মৌসুমে কমপক্ষে ১০টি দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোকে ক্লাব লাইসেন্সিংসহ প্রয়োজনীয় সকল শর্ত পূরণ করতে হবে।'
তালিকায় আগে থেকেই ১০টি দল বিদ্যমান থাকার পরেও নতুন এই আমন্ত্রণের পেছনে রয়েছে গভীর এক জটিলতা। দেশের দুই পরাশক্তি বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেডের বিরুদ্ধে ফিফার পক্ষ থেকে দলবদল নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। কিংসের বিরুদ্ধে তাদের সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ সংক্রান্ত ১১টি এবং আবাহনীর বিপক্ষে ৩টি অভিযোগের মীমাংসা বাকি। আগামীকাল, রোববার অভিযোগ নিষ্পত্তির শেষ দিন নির্ধারিত ছিল। আবাহনী ইতিমধ্যে দুটি অভিযোগের সমাধান করায় তারা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।
তবে বসুন্ধরা কিংসের বিষয়টি ভিন্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাফুফের এক শীর্ষ কর্তা প্রথম আলোকে জানান, ‘কিংসের পক্ষে ৪ আগস্টের ভেতরে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হওয়া সম্ভব নয় বলে আমরা ধারণা করছি। অথচ লিগের মান রক্ষার্থে কম করে ১০টি দল খেলতে হবে। এই কারণেই আপাতত একটি বিকল্প পথ হিসেবে ওই তিনটি ক্লাবকে খেলার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’
এই পরিস্থিতিতে একটি কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে—যদি এই তিন দল সকল লাইসেন্সিং বাধা পেরিয়ে মাঠে নামে এবং শেষ মুহূর্তে কিংসও নিষেধাজ্ঞাকাটিয়ে লিগে আসতে সক্ষম হয়, তাহলে কি আসন্ন আসরে দলের সংখ্যা ১৩-এ গিয়ে দাঁড়াবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাফুফের ওই কর্মকর্তা সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে কৌশলে বলেছেন, ‘দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কয়টা দল আসে। বাস্তবে ১৩টি দল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’ প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট থেকে ফেডারেশন কাপ ও ২৮-২৯ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ লিগের প্রথম রাউন্ডের খেলা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


