‘স্মাইল ডেভেলপার অ্যান্ড হাউজিং’ কোম্পানির আইটি বিভাগের ইনচার্জ সজল হাসান। তাঁর স্বভাবগত গাম্ভীর্যের জন্য তিনি অফিসে সুপরিচিত। কেউ কখনো তাঁকে হাসতে দেখেনি বললেই চলে। সহকর্মীদের মধ্যে প্রচলিত আছে, তিনি নাকি জন্মের সময়ও কাঁদেননি। এমনকি কথিত আছে, তিনি দাঁত ব্রাশও মুখ বন্ধ করে করেন এবং তাঁর ফেসবুকে ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট অপশনটি কাজ করে না—বরং তা সরাসরি ‘অ্যাংরি’তে রূপান্তরিত হয়। তাঁর পাসপোর্টের ছবি নিয়ে অফিস থেকে একবার ফোন করে বলা হয়েছিল, মনে হচ্ছে যেন তাঁকে দেশছাড়া করা হচ্ছে। তবে এসব গল্পের সত্যতা কেউ জানে না।
নতুন কর্মদিবসে বস মারিয়া জামানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। তিনি কোম্পানির চেয়ারম্যানের বোন এবং অবিবাহিতা। বস আসতে দেরি হওয়ায় মিটিংরুমে অপেক্ষারত কর্মচারীরা গল্পগুজবে মেতে ওঠেন। সেলস বিভাগের শারমিন বিরক্তি প্রকাশ করলে মেহবুব ভাই তাকে বুঝিয়ে দেন যে ক্লায়েন্টের জন্য অপেক্ষা করার মতো ধৈর্য থাকলে বসের জন্যও তা থাকা উচিত। এই ফাঁকে গ্রাফিকস ডিজাইনার রিয়াদ জানতে চান, কেউ যদি সজল ভাইকে কখনো হাসতে না দেখে থাকে, তাহলে তার হাসির সময় চোখ বন্ধ হওয়ার তথ্য কোথা থেকে এল। অ্যাকাউন্টস অফিসার রুহুল কুদ্দুস জানান, সজল ভাই নাকি ভুল করে মাত্র একবার হেসেছিলেন—বিয়ের দিন ক্যামেরাম্যানের অনুরোধে। এই গল্প বলার সময় রুহুলের অভিনয় এতটাই নাটকীয় ছিল যে মনে হচ্ছিল যেন কোনো হিন্দি সিরিয়ালের দৃশ্য চলছে।
ঠিক তখনই মিটিংরুমে প্রবেশ করেন সজল হাসান। যথারীতি গম্ভীর মুখে তিনি চেয়ারে বসলেন। তাঁর চোখ ছিল ছাদের দিকে। এক পর্যায়ে এক সহকর্মী তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কেন হাসেন না। উত্তরে সজল ভাই গম্ভীর কণ্ঠে বলেন, ‘জনাব, দুই দিনের দুনিয়ায় হেসেখেলে পার করতে আসিনি।’ এইচআর বিভাগের কবির জানতে চান, তাহলে তিনি কী করতে এসেছেন। জবাবে সজল ভাই বলেন, ‘মাসে একবার ইএমআই দিতে আর সপ্তাহে একবার বউয়ের ঝাড়ি খেতে!’ এই মন্তব্যে রুমের তিনজন বিবাহিত কর্মচারী মাথা নিচু করে হাসলেন।
এর কিছুক্ষণ পর পিয়ন এসে জানান, বস আসছেন। মুহূর্তের মধ্যে সবাই গম্ভীর হয়ে যান। মিটিংরুমে প্রবেশ করেন মারিয়া জামান। তিনি হাসিমুখে সবাইকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, ‘একি, সবাই এত সিরিয়াস মুডে কেন?’ কেউ উত্তর দেওয়ার আগেই সজল হাসান হাসতে হাসতে বলে ওঠেন, ‘না না ম্যাম, আমরা সবাই খুবই রসিক। আর আপনাকে বস হিসেবে পেয়ে আমরা ব্যাপক আনন্দিত…। হে হে হে…’ সহকর্মীরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। তাঁরা লক্ষ্য করেন, সজল ভাইয়ের দুই চোখ সম্পূর্ণ খোলা, যা নিয়ে আগে কৌতুক করা হয়েছিল। শারমিন খুশিতে হাততালি দিয়ে ফেলেন, যা লেডি বসকে কিছুটা বিব্রত করে তোলে। এই প্রথমবারের মতো অফিসে সজল হাসানের হাসি দেখে সবাই বুঝতে পারেন, তিনি আসলে হাসতে জানেন। তাঁর দাঁতের সারি দেখে সহকর্মীদের মনে হয়, সম্ভবত হিমু চরিত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসাই তাঁকে সাধারণত হাসতে বাধা দেয়।




