নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মেঘনা নদীতে স্নান করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে স্থানীয় জেলেদের জালে। সোমবার সকালে মনিপুরা ঘাট এলাকায় জাল তোলার সময় ওই কিশোরের লাশ ভেসে ওঠে। নিহতের নাম ইয়াসিন সরকার ওরফে দীপু (১৬) বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। সে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের দাইরের পাড় এলাকার বাসিন্দা হান্নান সরকারের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ইয়াসিন তার মা ও বোনের সঙ্গে মনিপুরায় মামার বাড়ি বেড়াতে আসে। পরদিন শনিবার দুপুরে স্থানীয় চার-পাঁচজন শিশু-কিশোরের সঙ্গে মেঘনার মনিপুরা ঘাটে গোসল করতে নামে সে। একপর্যায়ে তারা নদীতে ডুবে থাকা একটি কাঠের সেতুর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে তীব্র স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যায় ইয়াসিন। সঙ্গীরা পাড়ে উঠে ঘটনা জানালে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

খবর পেয়ে রায়পুরা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরাও অভিযানে যোগ দেয়। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সন্ধান না পেয়ে তারা উদ্ধার তৎপরতা স্থগিত করে। পরদিন রোববার পাঁচটি নৌকা নিয়ে এলাকাবাসী ও স্বজনরা নদীর ঘটনাস্থল ও আশপাশে খোঁজ চালালেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত সোমবার সকালে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জালে আটকা পড়ে ইয়াসিনের মরদেহ। জেলেরা তা পাড়ে তুলে স্বজনদের ফোন করে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

রায়পুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। তিনি জানান, পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের মামা আবু সায়েম বলেন, ইয়াসিন তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে নদীতে স্নান করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত পাঁচ দিনে রায়পুরায় নদী ও জলাশয়ে ডুবে মোট সাত শিশু ও কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।