অবৈধ ডেন্টাল চেম্বার ও ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের মাধ্যমে দাঁতের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জেলা সদর হাসপাতালে আধুনিক ডেন্টাল সেন্টার চালুর জোর দাবি জানিয়েছে দন্তচিকিৎসকদের প্ল্যাটফর্ম ডক্টর’স মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)–বিডিএস উইং। বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের পরও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট পরিচয়ে দাঁতের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। এই তৎপরতা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়। এতে করে সাধারণ রোগীরা স্বাস্থ্যগত জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও তাদের দাবি।
ডিএমজে-বিডিএস উইংয়ের কেন্দ্রীয় কো-অর্ডিনেটর চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পরিধি শুধু নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত কাজে সীমিত রাখার কথা। রোগনির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা, দাঁত উত্তোলন, রুট ক্যানাল বা প্রেসক্রিপশন প্রদানের মতো ক্লিনিক্যাল সেবা দেওয়ার আইনি এখতিয়ার তাদের নেই। কিন্তু দেশের নানা এলাকায় অবৈধভাবে এসব কার্যক্রম চলমান থাকার ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরকারি পর্যায়ে ডেন্টাল সেবার পরিসর অপ্রতুল হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। বেশিরভাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার না থাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত দন্তচিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সংকট নিরসনেও উপজেলা পর্যায়ে বিসিএস ক্যাডার চিকিৎসকদের মাধ্যমে আধুনিক ডেন্টাল সেন্টার চালু করার জোরালো সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠান থেকে সংগঠনটির পক্ষে থেকে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি তোলা হয়। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টে রায়ের আলোকে অবৈধ ডেন্টাল চেম্বার বন্ধ ও টেকনোলজিস্টদের মাধ্যমে চিকিৎসা বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিএমডি-সি, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ডেন্টাল চেম্বার পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলা হয়। দ্বিতীয়ত, দেশের প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিসিএস (বিডিএস) ক্যাডারের চিকিৎসকদের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার স্থাপন করতে হবে। এসব কেন্দ্রে ওরাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি, অর্থোডন্টিকস, এন্ডোডন্টিকস এবং পেরিওডন্টিকসসহ সকল প্রয়োজনীয় দন্তচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।




