মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কিত একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রোপিকের দারিও আমোদের উদ্দেশে পাঠানো এই চিঠিতে তিনি অনিয়ন্ত্রিত এআই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ তাৎক্ষণিকভাবে থামানোর দাবি তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুসারে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্বউদ্যোগে এই প্রযুক্তির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন সিনেটের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে।

স্যান্ডার্স মনে করেন, বর্তমান সময়ে এআই মডেলগুলোর কাজের ক্ষমতা ইতিমধ্যে বিপজ্জনক এবং আশঙ্কাজনক স্তরে উপনীত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে বলেও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যয় এড়ানোর সুযোগ এখনো পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়নি; সেজন্য মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এসব প্রযুক্তির নির্মাণ ও সম্প্রসারণ অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি।

চিঠিতে একটি বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিমভাবে নতুন ভাইরাস তৈরির সক্ষমতা। স্যান্ডার্স সতর্ক করে বলেন, সম্প্রতি এআই ব্যবহার করে নতুন ধরনের ভাইরাস কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। যদি এই ক্ষমতা ভুল মানুষের হাতে চলে যায়, তাহলে তা মারাত্মক জৈব অস্ত্রে পরিণত হতে পারে; যার ফলে কোটি কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এছাড়াও চিঠিতে তিনটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মেটা, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক—এই তিনটি সংস্থাই স্বীকার করেছে যে তাদের তৈরি এআই মডেলগুলো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে অননুমোদিতভাবে অনুপ্রবেশ করেছে অথবা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। স্যান্ডার্সের মতে, এটি স্পষ্ট প্রমাণ যে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে।

চিঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে স্যান্ডার্স প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ইয়োশুয়া বেঞ্জিওর বক্তব্য উদ্ধৃত করেন। বেঞ্জিও এই ঘটনাপ্রবাহকে একটি বিপদঘণ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। স্যান্ডার্স জানান, তিনি এই মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। তাঁর বিশ্বাস, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।

অপরদিকে, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাঁদের মতে, ওপেনএআইয়ের তৈরি মডেলের অনিয়ন্ত্রিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিষয়টি হয়তো খানিকটা বাড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে। তবুও এআই যেভাবে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভূত ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। সমস্যা সমাধানে বিশ্বব্যাপী যৌথভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা স্যান্ডার্স বিশেষভাবে জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

এআই মডেল নির্মাতা বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঝুঁকির সম্ভাবনা একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করলে এআইয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। কিন্তু সেই সীমা সম্পর্কে কোনো পরিষ্কার ধারণা বা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই অস্পষ্টতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে এই চিঠি ও তার অন্তর্ভুক্ত দাবিগুলোর বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে, যা থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।