চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী এলাকায় বুধবার বিকেলে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোরশেদ আলম (২৫) নামের এক যুবক। দুর্ঘটনার সময় তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি ও ডান পায়ের পাতা থেঁতলে যায়। পাশাপাশি বাঁ হাতের তিন থেকে চারটি আঙুল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত মোরশেদ সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের তৈয়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার সময় তিনি তাঁর স্ত্রী ও এক বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে দোহাজারী রেলস্টেশন সংলগ্ন পিডিবির তেল ডিপোর সাইডিং লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন।
দোহাজারী রেলস্টেশনের মাস্টার নেছার উল্লাহ জানান, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তেলবাহী একটি ট্রেন দোহাজারীর পিডিবি তেলের ডিপোতে আসছিল। ওই সময় ট্রেনটি শান্টিংয়ের মাধ্যমে পেছন থেকে সামনের দিকে ঠেলে নেওয়া হচ্ছিল। ইঞ্জিনটি ট্রেনের পেছনের দিকে থাকায় চালক বারবার হর্ন ও সাইরেন বাজাচ্ছিলেন। কিন্তু ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকায় মোরশেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেই সতর্ক সংকেত টের পাননি। ট্রেনটি ক্রমশ কাছে এসেও যুবক রেললাইন থেকে সরে না যাওয়ায় দুর্ঘটনাটি অনিবার্য হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনার পরপরই রেলওয়ের তিন কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে মোরশেদকে উদ্ধার করেন। তাঁকে রিকশাযোগে দোহাজারী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুহাম্মদ রকিবুল হাসান জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় মোরশেদকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি ও ডান পায়ের পাতা মারাত্মকভাবে থেঁতলে গেছে এবং বাঁ হাতের একাধিক আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় রেললাইনে ভিডিও ধারণের সময় সতর্কতা অবলম্বনের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। ট্রেনের চালকের বারবার হর্ন দেওয়া সত্ত্বেও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকায় বিপদের কোনো পূর্বাভাস পাননি মোরশেদ, যা শেষ পর্যন্ত গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




