অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে চলমান টেস্টে বাংলাদেশ দারুণ এক অবস্থানে পৌঁছে গেছে। স্বাগতিকদের হাতে এখন ৬ উইকেট থাকলেও তাদের লক্ষ্য এখন বাংলাদেশকে আবার ব্যাটিংয়ে নামাতে হলে ৬৬ রান তুলতে হবে। দুই দশকের বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন পরিস্থিতি সত্যিই বিরল। ২০০৩ সালের সিরিজে দুই ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ, আর সেই তুলনায় এবারের দৃশ্যপট একেবারে ভিন্ন। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশের অবস্থান নয় নম্বরে—এই ব্যবধান ঘুচিয়ে তারা যে বড় কিছুর দ্বারপ্রান্তে, তা স্পষ্ট।

ম্যাচের ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট যখন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনকে ড্রেসিংরুমের বর্তমান মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন নাজমুলের জবাব ছিল স্পষ্ট। তিনি জানান, তারা সেশন থেকে সেশনে এগোচ্ছেন এবং ফলাফলের দিকে তাকিয়ে নেই। লক্ষ্য একটাই— কীভাবে উইকেট আদায় করা যায়। পরিকল্পনা মোতাবেক বোলাররা দারুণ বল করেছে, বিশেষ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যা দেখে তিনি সত্যিই খুশি।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ষষ্ঠ উইকেট পড়েছিল ৩০৬ রানে। লিটন দাস ফিরে গেলে মূল ব্যাটারদের কাছ থেকে আর বড় জুটি আসেনি। তবে এরপরও শেষ চার উইকেট মিলিয়ে তারা যোগ করেছে আরও ১২০ রান। এই যোগফলই বাংলাদেশকে দুই শতাধিক রানের লিড এনে দিয়েছে। নিচের দিকের ব্যাটারদের এমন আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে ভুললেন না নাজমুল। তিনি বলেন, লোয়ার-মিডল অর্ডার ও টেলএন্ডারদের ব্যাটিংয়ে অবদান রাখার বিষয়টি তারা বারবার আলোচনা করে থাকেন। আজ সেই দৃঢ়তার প্রমাণ মিলেছে। দুই-তিন বছর ধরে এই দিকটি নিয়ে কাজ করছেন তারা এবং নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বোলাররা ব্যাট হাতে নিজেদের দায়িত্ব যে কতটা ভালোভাবে পালন করেছেন, তা আজকের দিনে ফুটে উঠেছে।

এদিকে, ম্যাচের অন্য আকর্ষণ ছিল যশস্বী জয়সোয়ালের অস্বাভাবিক রানআউট এবং দুই বছর পর ফিরে দেবদূত পাডিক্কালের সেঞ্চুরি। তবে এসব ঘটনার বাইরে বাংলাদেশের সামগ্রিক পারফরম্যান্সই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।