সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা উইন্ডো এবং নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। কোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বা কোথায় খেলা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করেনি বাফুফে। এ অবস্থায় জাতীয় দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বাফুফে ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডুলি জানান, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোতে আসিয়ান কাপে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, আগামী মাসে আসিয়ান কাপে খেলার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, তবে কাগজে-কলমে না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। আয়োজকরা বাংলাদেশকে পেতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং ঘরোয়া লিগের অনিশ্চয়তাকে মূল বাধা হিসেবে উল্লেখ করে ডুলি বলেন, একটি পেশাদার ক্লাবের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি সাধারণত ছয় সপ্তাহের হয়, আর শতভাগ ফিট হতে আরও পাঁচ থেকে আটটি ম্যাচ লাগে। কিন্তু মাত্র চার সপ্তাহ পর ফিফা উইন্ডো শুরু হবে, অথচ খেলোয়াড়েরা চার-পাঁচ সপ্তাহ ধরে অনুশীলনের বাইরে। লিগ কবে শুরু হবে তা নিয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেই। ফলে ফিফা উইন্ডোর সময় হয়তো খেলোয়াড়দের পাওয়া যাবে, যা অনুশীলনের জন্য মাত্র তিন বা চারটি সেশন দেবে।

একপর্যায়ে আক্ষেপ করে ডুলি বলেন, কিছুই প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। তিনি চেয়েছিলেন দল অনুশীলনে থাকুক এবং অন্তত ছয়-সাতটি ম্যাচ খেলে আসুক। জাতীয় দলে এসে কোনো খেলোয়াড়কে ফিট করে তোলা সম্ভব নয়, কারণ সেই সময়টুকু থাকে না। তবে বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আসিয়ান কাপ আয়োজনের কথা রয়েছে। ভারত সরে যাওয়ায় ফিফা বাংলাদেশের কাছে জানতে চেয়েছিল আসিয়ানে খেলার আগ্রহ আছে কি না। গতকাল বাফুফে সম্মতি দিয়েছে, এখন ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। আসিয়ানে সুযোগ পেলে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।

এসব দলের বিপক্ষে খেলে সাফের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে ডুলি বলেন, ওরা শক্তিতে এগিয়ে। শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেললে ভুলগুলো শুধরে নেওয়া যাবে। আসিয়ান কাপে বাংলাদেশি সমর্থকদের পাশে পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সাফে ভালো করতে প্রস্তুতি নিখুঁত হতে হবে এবং শতভাগ ফিট থাকলে খেলোয়াড়দের ওপর তার পুরো আস্থা আছে। আসিয়ানে আন্ডারডগ হিসেবে খেলা কিছুটা বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

আসিয়ানে খেলা না হলে বিকল্প পরিকল্পনাও রয়েছে। ডুলি জানান, নিজেদেরই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হতে পারে। কিরগিজস্তান বা লেবাননের মতো দলের বিপক্ষে শতভাগ ফিট না থেকে খেলে বাজেভাবে হারাটা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে না। যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে আশা করেন তিনি।

জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর সময়সূচি নিয়ে বাফুফে এখনো সিদ্ধান্তহীন। ডুলি বলেন, বাংলাদেশ লিগের সূচির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ভালো, কারণ তারা লিগ কিছুটা আগে থামিয়ে অন্তত বাড়তি সাত দিন অনুশীলনের সুযোগ দেয়। খেলোয়াড়দের চার সপ্তাহ আগে পেলে দারুণ হতো, তবে আপাতত লিগ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।