মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আবার জোরে আঘাত করার’ হুমকির পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার রাতে পারস্পরিক হামলার ঘটনার পর বুধবার ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। সিরিক ও বন্দর আব্বাস—হরমুজ প্রণালীর তীরে অবস্থিত এই বন্দর নগরী দুটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, এই হামলার উদ্দেশ্য হলো ‘আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকি দেওয়ার তেহরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করা’। সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি অত্যাবশ্যক আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক অযৌক্তিক আগ্রাসনের জবাব দিচ্ছে।’ এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে একাধিক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলার ‘তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিনিময় চলে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে তিনটি ট্যাংকারে হামলার জবাবে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা করেন, গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন ‘শেষ’। তিনি বলেন, ‘আমরা গত রাতে তাদের খুব জোরালো আঘাত করেছি এবং সম্ভবত আজ রাতে আবারও জোরে আঘাত করব।’
যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অশ্লীলতার জবাব অশ্লীলতা দিয়ে দেই না, বরং কাজ দিয়ে দেই: নির্ভীকভাবে এবং মহান সাহসিকতার সঙ্গে।’ মার্কিন ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিতে মোট ১৪টি ধারা ছিল। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, এ সময়ের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখা, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এখনও ওই ৬০ দিনের আলোচনাকাল শেষ হয়নি বলে জানা গেলেও ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আরও আলোচনাকে ‘সময়ের অপচয়’ বলে মনে করেন।
এই নতুন করে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।




