দেশের বিস্তৃত বন্যা পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে প্রতিবাদে নেমেছেন পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল এগারোটায় নগরের মুরাদপুর এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন তারা। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ ধ্বনি দিতে থাকেন এবং সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের এক পাশে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বন্যাপ্লাবিত বিভিন্ন জেলার অনেক শিক্ষার্থী দুর্যোগের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এই অবস্থায় পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের আবেদন করলেও তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়নি বলেই তারা জানান। ফলে বাধ্য হয়েই রাজপথে নামা ছাড়া বিকল্প পথ ছিল না বলে মন্তব্য করেন তারা।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা তিনটি সুস্পষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন। প্রথমত, কেবল চট্টগ্রাম বোর্ড নয়, বরং সারা দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সম্প্রতি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র অতি দ্রুত নতুন করে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মো. ওমায়ের বলেন, “আমাদের দাবি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। আমরা শুধু একটি বোর্ডের জন্য নয়, গোটা দেশের সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত চাই। প্রশ্নে ভুলের দায় যাদের, তাদের শাস্তির আওতায় আনতেই হবে। বন্যায় অনেকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো দ্রুত পুনরায় দিতে হবে।”

দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা বোর্ড ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে বোর্ড সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হকের সাথে তাদের বৈঠক হয়। তিনি পরে সাংবাদিকদের জানান, প্রশ্নপত্রে ভুল সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তবোর্ড কমিটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রের সমস্যা সমাধানে বোর্ড তাদের পাশে আছে এবং আগত যে কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

ঘটনাস্থলে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এখন শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে বেলা দেড়টায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের বহদ্দারহাটমুখী লেনে যানচলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আরও বড় কর্মসূচিতে যাওয়া হবে।