জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি উয়েফার আস্থাহীনতার কথা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি সংস্থায় বেসরকারি মূলধন আনার যে পরিকল্পনা ছিল, তা পরিত্যাগে বাধ্য হয়েছেন ইনফান্তিনো। কিন্তু এই ঘটনার পরও সমালোচনা প্রশমিত হয়নি। ইউরোপ ছাড়াও এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের ফুটবল পরিচালকদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে বর্তমান প্রধানের আরেকটি মেয়াদ লাভের সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনা দানা বেঁধেছে। ইউরোপের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ইতোমধ্যে কয়েকজন সম্ভাব্য উত্তরাধিকারের নাম সামনে এনেছে।
এদের মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত নাম কানাডার ফুটবল প্রশাসক ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ানি। ২০১৬ সাল থেকে তিনি উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক বডি কনক্যাকাফের নেতৃত্বে রয়েছেন এবং একই সঙ্গে তিনি ফিফার সহ-সভাপতি। ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে কানাডার বিড বাস্তবায়নে তার ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। টকস্পোর্টের এক তথ্যানুসারে, কনক্যাকাফ ও উয়েফার সমন্বয়ে গঠিত ৯৬টি ভোটের সঙ্গে আর মাত্র ১০টি ভোট পেতে পারলেই মন্তাগ্লিয়ানির জন্য ফিফার সর্বোচ্চ পদটি সুগম হতে পারে। যদিও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে তিনি এখনও নীরব।
অন্যদিকে, বাহরাইন রাজপরিবারের সদস্য ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর বর্তমান সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি ফিফার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং ২০১৬ সালে ইনফান্তিনোর কাছে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত প্রকল্পের সবচেয়ে তীব্র সমালোচকদের মধ্মেও তাকে দেখা গেছে।
ইউরোপের ৫৫ সদস্যের সংগঠনের প্রধান উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন সাম্প্রতিক কালে ইনফান্তিনোর বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ইনফান্তিনোর ওপর ক্ষোভে তিনি একবার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ বয়কটও করেছিলেন। তবে স্বয়ং প্রার্থী না হয়ে উয়েফার অভ্যন্তরে ইনফান্তিনোবিরোধী জোট গঠনের কৌশলে স্লোভেনিয়ার এই আইনজীবী অধিকতর সক্রিয়।
বর্তমান ফিফা মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রমও কথিত প্রার্থী তালিকায় বিদ্যমান। ২০২৩ সাল থেকে ফিফার এই সুইডিশ ক্রীড়া প্রশাসক দায়িত্বরত আছেন। ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্ট না থাকায় অনেকেই তাকে গ্রহণযোগ্য প্রতিস্থাপন হিসেবে মানেন। এমনকি ইনফান্তিনোর অপসারণের পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বও তিনি নিতে পারেন বলে কিছু মহলের মত রয়েছে।
প্যারিস সেন্ট-জারমেইনের প্রেসিডেন্ট নাসের আল-খেলাইফির নামও এফাতে ভাসছে। যিনি বিইন মিডিয়া গ্রুপ ও ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী। যদিও টকস্পোর্টের প্রতিবেদন তার কাছের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে তার ফিফা সভাপতি পদের জন্য লড়ার কোনো ইচ্ছা নেই। বর্তমান সব দায়িত্ব নিয়েই তিনি তুষ্ট থাকতে চান, তবে ভবিষ্যতের পরিস্থিতি বদলের সম্ভাবনা নাকচ করা যাচ্ছে না।
এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ধনকুবের ও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) সভাপতি পাত্রিস মোটসেপেও তালিকায় আছেন। যদিও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি থাকায় বর্তমান সভাপতি পুনঃনির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।



