গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরে হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটার এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আকিজ বাইসাইকেল ঢাকা মেট্রো হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। ট্রায়াথলন ড্রিমার্স দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজন করে। ‘রান দ্য সিটি, সেলিব্রেট দ্য কালচার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ দৌড়ে দেশ-বিদেশের সহস্রাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। সূর্যোদয়ের আগেই দৌড়বিদরা জড়ো হতে শুরু করেন। সবার গায়ে নানা রঙের জার্সি, কেউ প্রস্তুতি হিসেবে স্ট্রেচিং করছেন—এমন পরিবেশে সকালে স্টার্টিং হর্ন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তারা রাজধানীর নান্দনিক সড়কে ছুটতে থাকেন।

আয়োজনে চারটি বিভাগ রাখা হয়: ২১ দশমিক ১ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথন, ১৫ কিলোমিটার, ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং শিশুদের জন্য এক কিলোমিটার দৌড়। সব বিভাগই এআইএমএস (অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথনস অ্যান্ড ডিসট্যান্স রেস) স্বীকৃতি পেয়েছে। পেশাদার টাইমিং সিস্টেম, চিকিৎসা সহায়তা, পানীয় সরবরাহ বিন্দু এবং শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে ইভেন্টটি সাজানো হয়েছিল। নারী ও পুরুষ বিভাগে আলাদাভাবে বিজয়ী নির্ধারণ করে তাদের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।

হাফ ম্যারাথনের পুরুষ বিভাগে গান টাইমে ১ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ১৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন আশরাফুল আলম। নারী বিভাগে ১ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হন হামিদা জেবা। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের হাফ ম্যারাথন বিভাগে পুরুষদের মধ্যে এ কে এম গোলাম কিবরিয়া ১ ঘণ্টা ৫১ মিনিট ১৭ সেকেন্ড ও নারীদের মধ্যে ফাতেমা আঞ্জুম হাসান ২ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন।

১৫ কিলোমিটার বিভাগে পুরুষদের মধ্যে পলাশ শেখ ৫৩ মিনিট ১৯ সেকেন্ড এবং নারী বিভাগে সায়তো রোখিত ১ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ২২ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হন। ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৌড়ে পুরুষ বিভাগে মুহিবুর রহমান রাহি ২৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড ও নারী বিভাগে রানি টিকাদার ৪৫ মিনিট ৪ সেকেন্ড সময়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে বিজয়ী হন। শিশুদের এক কিলোমিটার দৌড়ে আতিক আল মামুন ৪ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে।

দৌড় পরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, এই আয়োজন নিছক একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের দৌড় সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। তিনি আরও জানান, এবারের সফল ইভেন্ট প্রমাণ করেছে যে আন্তর্জাতিক মানের রোড রানিং আয়োজনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের উপস্থিতিতে পুরো হাতিরঝিল এলাকা যেন এক উৎসবে পরিণত হয়েছিল।