পেটের সমস্যা সবসময় ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই রকম উপসর্গের পেছনে প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ, সিলিয়াক ডিজিজ বা দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণও থাকতে পারে। আইবিএস মূলত একটি ফাংশনাল বাওয়েল ডিজঅর্ডার, যেখানে অন্ত্রে বড় কোনো ক্ষত না থাকলেও এর কাজের ধরনে সমস্যা দেখা দেয়। এই রোগের উপসর্গ ওঠানামা করে—কখনো তীব্র, কখনো হালকা। নির্দিষ্ট খাবার, মানসিক চাপ বা ঘুমের সমস্যা উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে কিছু লক্ষণ আছে যেগুলোকে 'রেড ফ্ল্যাগ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন অকারণে ওজন কমা, মলের সঙ্গে উজ্জ্বল লাল বা কালো রক্ত যাওয়া, ঘুমের মধ্যে নিয়মিত ডায়রিয়ার জন্য জেগে ওঠা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা অতিরিক্ত দুর্বলতা, রক্তস্বল্পতা ও মাথা ঘোরা, পেটে শক্ত চাকা অনুভব করা কিংবা ক্রমেই বাড়তে থাকা তীব্র পেটব্যথা। এসব লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, কারণ এগুলো আইবিএসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়।

বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। অল্প বয়সে দীর্ঘদিন ধরে ওঠানামা করা উপসর্গ এবং কোনো রেড ফ্ল্যাগ না থাকলে আইবিএস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু বয়স বাড়ার পর হঠাৎ নতুন করে বদহজম বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে—বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া ক্রমেই বাড়তে থাকলে—সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

আইবিএস নির্ণয়ে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক পেটব্যথার ধরন, খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক, মলের অভ্যাসের পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। কখন থেকে সমস্যা শুরু, কীভাবে তা প্রকট হয়—সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়। প্রয়োজনে রক্ত, পায়খানা বা অন্যান্য পরীক্ষা করানো হয়। মনে রাখতে হবে, পেটের সব সমস্যা আইবিএস নয়—সঠিক রোগ নির্ণয়ই চিকিৎসার প্রথম ধাপ।