গত ডিসেম্বরে সিডনির বন্ডি বিচে একটি ইহুদি উৎসবে বন্দুকধারীর গুলিতে ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যটি আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে নগদ অর্থ প্রদানের কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটিতে অস্ত্র আইন সংস্কারের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

চলতি বছরের ২ নভেম্বর থেকে নিউ সাউথ ওয়েলসের (এনএসডব্লিউ) বাসিন্দারা তাদের অবৈধ বা অননুমোদিত হ্যান্ডগান, শটগান ও রাইফেল জমা দিলে সর্বোচ্চ ১,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৫২৩ পাউন্ড) পর্যন্ত নগদ অর্থ পাবেন। রাজ্যের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস শনিবার জানান, লক্ষ্য হলো যত বেশি সম্ভব অস্ত্র জমা পড়া — তিনি আশা করছেন কয়েক হাজার বন্দুক সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। মি. মিনস বলেন, “আমরা চাই এসব বন্দুক জমা পড়ুক, ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক এবং নিরাপদে ধ্বংস করা হোক।”

এই অস্ত্র ক্রয়-ফেরত কর্মসূচি নতুন আইনে যাদের কাছে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি অস্ত্র থাকবে, অথবা যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে (লাইসেন্সের মেয়াদ আগে পাঁচ বছর ছিল, এখন তা কমিয়ে দুই বছর করা হয়েছে) — তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। রাজ্যে ইতিমধ্যে কার্যকর হওয়া সংস্কার অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ চারটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন, তবে কৃষক ও ক্রীড়া শ্যুটারদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টি পর্যন্ত হতে পারে।

কর্মসূচিটি দুটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে, নভেম্বরের শুরু থেকে নির্দিষ্ট ধরনের হ্যান্ডগান, শটগান ও রাইফেল জমা নেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ, একটি রিভলভার জমা দিলে ১,০০০ ডলার এবং একটি এয়ার রাইফেলের জন্য ৪৫০ ডলার দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপটি আগামী বছরের শুরুতে শুরু হবে, যেখানে ৩,০০০ ডলারের বেশি মূল্যের “উচ্চ-মূল্যের আগ্নেয়াস্ত্র” অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ ১০,০০০ ডলার।

এই জাতীয় বন্দুক ক্রয়-ফেরত প্রকল্পের অর্থায়ন করবে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য সরকার এবং অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার যৌথভাবে। পাশাপাশি, নতুন আইনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং অস্ত্র ব্যবসায়ীদের জন্যও সাহায্যের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বন্ডিতে সংঘটিত ইহুদি-বিরোধী সন্ত্রাসী হামলা যেন আর কখনো না ঘটে সেজন্য সবকিছু করতে হবে। তিনি বলেন, এর মধ্যে অর্থপূর্ণ জাতীয় পর্যায়ের অস্ত্র সংস্কার অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর হানুক্কা উদযাপনের সময় দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সৈকতের কাছে এই হামলায় ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে ও এক হলোকস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিসহ ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে দেশব্যাপী অস্ত্র ক্রয়-ফেরত কর্মসূচির পরিকল্পনা করলেও তহবিল ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। তবে এনএসডব্লিউ-র এই পদক্ষেপকে জাতীয় পর্যায়ে অস্ত্র সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রদূত হিসেবে দেখা হচ্ছে।