হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটের আকস্মিক পদত্যাগকে ঘিরে নতুন এক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণ আফ্রিকাস্থিত দূতাবাসের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করা হয়েছে, গত মাসে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ইরানের হুমকি এড়াতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিশেষ বিমানবহর ব্যবহার করেছিলেন, সেই 'ডিকয় প্লেনে' লিভিট ছিলেন এবং তাকে বিপদে ফেলে ট্রাম্প নিজে খাদ্য পরিবহনের ট্রাকে লুকিয়ে অন্য বিমানে চড়েছিলেন। ফলে পদত্যাগ করেছেন লিভিট।
তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট স্নোপসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'এটি সত্য নয়, তিনি ওই ভ্রমণে ছিলেন না।' নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান, যিনি ওই ঘটনা প্রথম রিপোর্ট করেছিলেন, তিনিও নিশ্চিত করেছেন যে লিভিট ওই বিমানে ছিলেন না।
প্রসঙ্গত, লিভিট সম্প্রতি দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছেন। গত ১ মে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ১৬ জুলাই তিনি হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে ফিরে আসেন, তবে এর কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কাতার থেকে উপহার পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের যাত্রায়ও তিনি ছিলেন।
বুধবার এক বিবৃতিতে লিভিট জানান, তিনি পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি লেখেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে ফেরার পর তিনি অনুভব করেছেন যে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার দুই সন্তানের জন্য আদর্শ মা হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আগামী মাসের শেষে তার পদ ছাড়ার কথা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে তিনি 'তিক্ত-মধুর' বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, তিনি সর্বদা MAGA ও রিপাবলিকান পার্টির একজন সোচ্চার সমর্থক থাকবেন। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লিভিটের সিদ্ধান্তকে বোঝা ও সম্মান করার কথা জানিয়ে তাকে 'শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টা এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, গত ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারা ত্যাগের সময় ট্রাম্পকে গোপনে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে একটি ছোট বিমান বোয়িং সি-৩২এ-তে খাদ্য পরিবহনের ট্রাকের মাধ্যমে স্থানান্তরিত করা হয়। ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, তিনি কাতারের নতুন জেটের বদলে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়বেন 'পুরোনো দিনের স্মৃতির খাতিরে'। তবে পরে তিনি কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ছোট বিমানে ওঠেন, এবং সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টসহ অন্য কয়েকজন মন্ত্রী ও সাংবাদিকদের ডিকয় বিমানে রেখে যান।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইরানের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকির তথ্য পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সূত্রে পাওয়া এই হুমকির বৈধতা নিয়ে সিআইএ-র কিছু কর্মকর্তাসহ অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত দূতাবাস ট্রাম্পের এই কৌশল নিয়ে উপহাস করে খাদ্যভর্তি ট্রলিতে তার ছবিসহ মিম পোস্ট করেছে।




