জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শেখ মোরছালিনসহ শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন ফুটবলার ঢাকার বাইরে স্থানীয় ‘খেপ’ খেলায় অংশ নিচ্ছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরও নিজ থেকে কোনো তদন্তে নামবে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। রোববার বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান সংস্থাটির সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

বাফুফে সভাপতি বলেন, অভিযোগ কারও কাছ থেকে না আসা পর্যন্ত তারা নিজে থেকে কিছু খুঁজে বের করবেন না। তবে বিষয়টি সামনে এলে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তাবিথের ভাষ্য, ‘জাতীয় দলের ও ক্লাবের খেলোয়াড়েরা অন্য কোথাও খেলছে—এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ দেয়নি।’ তাই এ বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য না করে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে চান তারা।

খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই নিজের অবস্থান ও ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন। অতীতে নিয়ম ভেঙেছেন এমন খেলোয়াড়ও আছেন, এমনকি জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েও অনেকে যোগ দেননি—কিন্তু খুঁজে খুঁজে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করবে না বাফুফে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি-ভিডিও সম্পর্কে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেগুলো সংস্থার কাছে পৌঁছালে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে পেশাদার ফুটবলারদের এভাবে কাদা মাঠে খেপ খেলাকে অনেকেই পেশাদার লিগের চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। এতে অতিরিক্ত চোটের ঝুঁকি তৈরি হয় বলেও অভিমত তাদের। তবে ভিন্ন মতও কম নেই—অনেক ফুটবলার ক্লাব থেকে নিয়মিত বেতন-পারিশ্রমিক পান না, তাই জীবিকার তাগিদে এমন ম্যাচে অংশ নিতে বাধ্য হন তারা। এছাড়া সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুরোধ বা চাপও এর পেছনে কাজ করে বলে জানান অনেকে। সম্প্রতি জাতীয় দলের ডিফেন্ডার রহমত মিয়াও এমন প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছিলেন।

জাতীয় দল ও ক্লাবের চুক্তির বাইরে খেপ খেলা বাফুফের শৃঙ্খলাবিধির পরিপন্থী হলেও এ নিয়ে নীরব ভূমিকায় থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেডারেশন।