বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে স্থানীয় পর্যায়ে কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (সিডিএন) বা এজ নোড স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে টেক জায়ান্ট মেটা। একইসঙ্গে দেশে স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীর সঙ্গে সাক্ষাতে মেটার একটি প্রতিনিধিদল এই আশ্বাস দেয়। বিটিআরসির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেটার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার পাবলিক পলিসি পরিচালক ইউয়েন টিং চে, বাংলাদেশ ও নেপালের পাবলিক পলিসি প্রধান রুজান সারওয়ার এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের এজ স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ম্যাট জ্যানসেন। বিটিআরসির পক্ষ থেকে কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিটিআরসি জানায়, দেশে বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। তাই বাংলাদেশে স্থানীয় অফিস স্থাপন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সিডিএন বা এজ নোড স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কমিশন, যাতে ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা পান। ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণ এবং স্থানীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও মেটাকে অবহিত করা হয় বিটিআরসির পক্ষ থেকে।

জবাবে মেটার প্রতিনিধিরা জানান, আগের ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের কিছু বিধান স্থানীয় অবকাঠামো স্থাপনে আইনি জটিলতা তৈরি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ সেই বাধা না থাকায় তারা এখন এসব বিষয়ে দ্রুত এগোতে চান।

বৈঠকে প্রতারণা ও জুয়া ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান। অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধে মেটার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

জবাবে মেটার প্রতিনিধিরা জানান, বৈশ্বিকভাবে জনবল পুনর্গঠনের কারণে কিছু কার্যক্রমে সাময়িক ধীরগতি দেখা দিলেও তা শিগগিরই স্বাভাবিক হবে। মেটার পাবলিক পলিসি প্রধান রুজান সারওয়ার বিটিআরসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে জানান, স্থানীয় অবকাঠামো ও অফিস স্থাপনের কারিগরি ও আইনি দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।