ওপেনএআইয়ের সাবেক শীর্ষ নির্বাহী ফিজি সিমো, যিনি গত সাত বছর ধরে পোস্টুরাল অর্থোস্ট্যাটিক ট্যাকিকার্ডিয়া সিন্ড্রোম (পিওটিএস) নামক একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছিলেন, সম্প্রতি তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এখন থেকে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা খুঁজে বের করার ওপর মনোনিবেশ করবেন। সিমোর এই পদক্ষেপকে অনেকে সন্দেহের চোখে দেখলেও, তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি নতুন কোম্পানি—ক্রনিকলবায়ো। ফিজি সিমো এর আগে মেটায় এক দশক কাজ করেছেন, সেখানে তিনি ফেসবুক অ্যাপের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ইনস্টাকার্টের প্রধান নির্বাহী হিসেবে ২০২৩ সালে কোম্পানিটিকে পাবলিক করার পর ২০২৫ সালে ওপেনএআইতে যোগ দেন। ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানের অধীনে জেনারেল এজিআই ডিপ্লয়মেন্টের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করার পর এখন তিনি পুরোপুরি নিজের চিকিৎসা ও ক্রনিকলবায়োর উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছেন। এখন তিনি নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তবুও তিনি ওপেনএআইয়ের নেতৃত্ব দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, বিশেষ করে স্যাম অল্টম্যান ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যানের সঙ্গে। ব্রকম্যানের স্ত্রী আনারও পিওটিএস রয়েছে, পাশাপাশি আরও দুটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। ক্রনিকলবায়োর তিন সহ-প্রতিষ্ঠাতা—সিমো, রোহিত গুপ্ত ও ঋষি রেডি—সবাই নিজেরা বা পরিবারের কেউ না কেউ দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে সিমো জানান, তিনি শারীরিকভাবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। পিওটিএসের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এটি দাঁড়ানোর সময় মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, মস্তিষ্কের কুয়াশা, মাথাব্যথাসহ অন্যান্য উপসর্গ সৃষ্টি করে, যা শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘটে। সিমো মনে করেন, দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলো ‘একটি প্রকৃত মহামারী’তে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শত শত বিলিয়ন ডলারের উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কথা বলছি, তাই এই অবস্থার জন্য ওষুধ খুঁজে বের করার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’ প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরে ক্রনিকলবায়ো উটাহ, অ্যারিজোনা, টেক্সাস ও ভারতে ৭০৯ জন রোগীর কাছ থেকে ৮৯০টি রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে। কোম্পানির তথ্যমতে, তাদের ‘বায়োব্যাংকে’ ৩,৫০০ এর বেশি রক্তের টিউব রয়েছে। এই রক্ত থেকে তারা ১৫৩ টেরাবাইট তথ্য বের করেছে, যা ২০২২ সালে ওপেনএআইয়ের জিপিটি ৩.৫ মডেলের প্রশিক্ষণ তথ্যের (৪৫ টেরাবাইট) তিনগুণ। এ পর্যন্ত কোম্পানিটি ১৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। আগামী ১১ আগস্ট থেকে ক্রনিকলবায়ো মোবাইল ফ্লেবোটমি ট্রাকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের বাসায় গিয়ে রক্ত সংগ্রহ শুরু করবে। প্রথম ২৫০ জনের জন্য এই পরিষেবা বিনামূল্যে থাকবে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাবেন, বিনিময়ে তাদের জৈবিক তথ্য ক্রনিকলবায়োকে দিতে হবে। লক্ষ্য হলো রোগ সম্পর্কে আরও জানা এবং ক্লিনিক্যাল ওষুধ পরীক্ষার সাফল্যের হার বাড়ানো, যা সিমোর মতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছাড়া প্রায় অসম্ভব। সিমো ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর জটিলতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছাড়া সমাধান করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কারণ এগুলো বহু-সিস্টেমিক, তাই স্নায়ুতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও জিনগত তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার জন্য বিশাল তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিশ্লেষণের খরচ কমে যাওয়ায় এখন তা সম্ভব হচ্ছে। ক্রনিকলবায়ো বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মডেল ব্যবহার করছে। সিমো জানান, প্রচলিত ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড (ইএইচআর) তথ্য যথেষ্ট নয়, তাই প্রকৃত জৈবিক তথ্য সংগ্রহের জন্য রক্ত সংগ্রহ জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সবকিছু করতে পারি কিন্তু রোগ নিরাময় করতে না পারি, তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকৃত প্রতিশ্রুতি সবসময়ই ছিল রোগ নিরাময় করা।’