দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিদেশের মাটিতে ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। ৪২ বছর বয়সী এই প্রাক্তন ক্রিকেটার দীর্ঘদিন আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে বিরাট কোহলির সঙ্গে একই দলের হয়ে খেলেছেন। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কথা ক্রিকেট বিশ্বে সুপরিচিত। কিন্তু ডি ভিলিয়ার্স স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানে নয়, বরং নিখাদ যুক্তি ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই তিনি কোহলিকে টেন্ডুলকারের চেয়ে এগিয়ে রাখছেন।
বিদেশের কন্ডিশনে ভারতের ব্যাটিংয়ের ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, শচীন টেন্ডুলকারই প্রথম দেখিয়েছিলেন যে উপমহাদেশের ব্যাটসম্যান হিসেবে বাউন্সি ও সিমিং উইকেটে ভালো করা সম্ভব। টেন্ডুলকার সেই ধারার সূচনা করেছিলেন বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু সেই ধারাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব তিনি কোহলির। ডি ভিলিয়ার্সের ভাষায়, টেন্ডুলকারের মতো শক্তিশালী ব্যাটসম্যান ছিলেন না কোহলি—বরং কোহলি আরও এক ধাপ এগিয়ে। টেস্ট ক্রিকেটে এই মূল্যায়নে তিনি কোহলিকে স্পষ্টত এগিয়ে রাখেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, টেন্ডুলকার বিদেশে ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড তৈরি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে কোহলি সেই মানদণ্ডকে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ফলে এখন লোকেশ রাহুল ও দেবদূত পাড়িক্কালের মতো তরুণ ব্যাটসম্যানরা সেই পথ অনুসরণ করতে সক্ষম হচ্ছেন এবং টেন্ডুলকার ও কোহলির পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন।
সাম্প্রতিক শ্রীলঙ্কা সফরে গল টেস্টে ভারতের ১৬৫ রানের জয়ের ঘটনাও ডি ভিলিয়ার্সের বিশ্লেষণের সঙ্গে মিলে যায়। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ম্যাচে ভারতের প্রথম ইনিংসে লোকেশ রাহুল ৮২ রান করেন। একই ইনিংসে দেবদূত পাড়িক্কাল ১৬৭ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন। এই দুজনের ব্যাটিং বিদেশের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ক্রমবর্ধমান দক্ষতারই প্রতিফলন বলে মনে করা যায়।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে টেন্ডুলকার ও কোহলির বিদেশে টেস্ট রেকর্ডের তুলনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঘরের বাইরে ১০৬টি টেস্টে ১৭৬ ইনিংসে ব্যাট করে টেন্ডুলকার ৫৪.৭৪ গড়ে ৮,৭০৫ রান সংগ্রহ করেছেন। তাঁর সেঞ্চুরির সংখ্যা ২৯টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড এখনো টেন্ডুলকারের। টেস্টেও সর্বোচ্চ রানের মালিক তিনি। অন্যদিকে, গত বছর টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া কোহলি ঘরের বাইরে ৬৬টি ম্যাচে ১১৯ ইনিংসে ৪১.৫১ গড়ে ৪,৭৭৪ রান করেছেন। তাঁর সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৬টি। যদিও পরিসংখ্যানের নিরিখে টেন্ডুলকারের গড় ও রান বেশি, ডি ভিলিয়ার্সের মতে কোহলির প্রভাব ও মানদণ্ড স্থাপনের গুরুত্ব কম নয়।
ডি ভিলিয়ার্স নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিনি ১১৪টি টেস্ট, ২২৮টি ওয়ানডে ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই সংস্করণেই তাঁর ব্যাটিং গড় ৫০-এর বেশি। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের চোখে তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। তাঁর এই অভিমত ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আন্তর্জাতিক মানচিত্রে অবস্থান নিয়ে নতুন করে চিন্তার খোরাক যোগাচ্ছে। পাশাপাশি এটি প্রমাণ করে যে, বিদেশের কঠিন কন্ডিশনে উপমহাদেশের ব্যাটসম্যানদের সাফল্য এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠিত ধারায় পরিণত হয়েছে।




