হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সমাপ্তিতে ইংল্যান্ড ১৯৫ রানের শক্তিশালী লিড অর্জন করেছে। স্বাগতিক দল ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৬৬ রান তুলেছে, যেখানে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ছিল ১৭১।
বৃষ্টির কারণে দিনের প্রথম সেশন সম্পূর্ণরূপে ভেসে যায়। তবে মাঠে খেলা শুরু হলে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা রান তোলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। আগের দিন ২ উইকেটে ১১২ রান নিয়ে দিন শেষ করা দলটি আজ জর্ডান কক্স ও জো রুটের ব্যাটে নতুন গতি পায়। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন মিলে ১৫০ রান যোগ করেন, যা ৩৪ ওভার ধরে স্থায়ী ছিল। কক্স নিজের দুটি টেস্টের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ফিফটি পূরণ করে সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ৭৩ রানের মাথায় আলী উসমানের বলে উইকেটকিপারের কাছে ক্যাচ দিয়ে তিনি বিদায় নেন। ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নামা এই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের মাত্র চার বল পরেই খুররম শেহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন জো রুট। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান, যিনি এই টেস্টের মাধ্যমে আবার ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়কত্বে ফিরেছেন, ৬৬ রান করে থামেন। শুধু ফিফটি করেই ফেরায় উভয়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই হতাশা কাজ করেছে, যদিও পরবর্তীতে হ্যারি ব্রুকের ইনিংসে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যায়।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত ব্রুক আজ ৯৩ বলে ৯১ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস উপহার দেন। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩টি চার। হোম গ্রাউন্ডে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পাওয়ার সুযোগ হারান তিনি পাকিস্তানি বাঁহাতি স্পিনার আলী উসমানের বলে বোল্ড হয়ে। অবশ্য ব্রুক দ্বিতীয় বলেই আউট হতে পারতেন—শেহজাদের বলে স্লিপে ক্যাচ তুললে সালমান আগা তা ধরতে ব্যর্থ হন। উল্টো আঙুলে রক্তাক্ত হয়ে সালমান মাঠ ছাড়েন এবং সেই বলে চার রান যোগ হয়। কক্সের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নামা ব্রুক পঞ্চম উইকেটে ড্যান লরেন্সকে সঙ্গে নিয়ে ১২০ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন। লরেন্সও ফিফটি অর্জন করে ৫১ রানে ফিরলে জুটির অবসান ঘটে।
বোলিংয়ে পাকিস্তানের পক্ষে আলী উসমান সবচেয়ে উজ্জ্বল। ব্রুককে ফিরিয়ে তিনি তৃতীয় উইকেট দখলের পর আরও দুটি উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম পাঁচ উইকেটের স্বাদ পান। তার বোলিং বিশ্লেষণ ৫ উইকেটে ৯২ রান। ইংল্যান্ডের ইনিংসে ব্রুক ৯১, কক্স ৭৩, রুট ৬৬, লরেন্স ৫১ ও গে ৩৩ রান করেন। দ্বিতীয় দিন শেষে দলের স্কোর দাঁড়ায় ৮২ ওভারে ৩৬৬/৮। সংক্ষিপ্ত স্কোরে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ১৭১ রান করেছিল, যেখানে ইংল্যান্ডের হয়ে বোলারদের মধ্যে আলী উসমান ৫/৯২ নিয়ে সেরা বোলিং করেন।




